প্রায় ২৫০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকলেও উপস্থিতি ২০-২৫ জনের; আগে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ জেলেদের, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রশাসনের
ভূঞাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের অনুষ্ঠানে জেলেদের উপস্থিতি কম, ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) | ১৬ আগস্ট ২০২৬ঃ “রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনে সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও সরেজমিনে অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। স্থানীয় জেলেদের দাবি, অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন মৎস্যজীবী ও জেলে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে ভূঞাপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন সাধারণ জেলের সঙ্গে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাদের অভিযোগ, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির বিষয়ে মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে অনেক সাধারণ জেলেকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পর্যাপ্ত প্রচারণা ও যোগাযোগ না থাকায় অনেকেই অনুষ্ঠানের খবর জানতে পারেননি।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, অনুষ্ঠান সম্পর্কে আগে থেকে জানানো হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করতেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সাধারণ জেলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই সীমিতসংখ্যক মানুষকে নিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে।
তারা প্রশ্ন তোলেন, সরকারি অর্থ ও বরাদ্দে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচিতে তৃণমূলের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণ কেন নিশ্চিত করা হলো না।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. রিমা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, মৎস্যজীবী ও জেলেদের সব সংগঠনকে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। এরপরও কেন তারা উপস্থিত হননি, তা তিনি বলতে পারছেন না।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল। সব জেলেকে কীভাবে অনুষ্ঠানে জানানো সম্ভব—এমন প্রশ্নও তিনি করেন।
তবে প্রায় ২৫০ জনের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন জেলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, অনেক জেলেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা প্রশাসক মো. মাহবুব হাসান বলেন, অনুষ্ঠানটি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী ও জেলেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আয়োজকদের।
কেন সাধারণ জেলেদের উপস্থিতি কম ছিল, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করা। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো সরকারি কর্মসূচি সফল করতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতিনিধিকে নিয়ে অনুষ্ঠান করলেই হবে না। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে প্রকৃত জেলে ও মৎস্য চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।
তাদের মতে, পর্যাপ্ত প্রচারণা ও সঠিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে তৃণমূল পর্যায়ের মৎস্যজীবীরা সরকারি কর্মসূচিতে আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্মসূচিও আরও কার্যকর হবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচিতে সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের আরও ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সরকারের এ ধরনের আয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।























