ট্যাংক পরিবহনে নিজ খরচ, অনলাইন ফি আদায় ও নিম্নমানের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
কলাপাড়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (DPHE) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ট্যাংক বিতরণ ও স্থাপন কাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণ এবং সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউনিয়নে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
গত ১৮ জুলাই পুরান মহিপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ট্যাংক স্থাপনের জন্য নির্মিত প্ল্যাটফর্মে নিম্নমানের খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ট্যাংক ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সুবিধাভোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং ট্যাংক স্থাপন করার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক সুবিধাভোগীকে নিজেদের খরচে ট্যাংক পরিবহন করতে হয়েছে।
এছাড়া “অনলাইন খরচ” দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক সুবিধাভোগী।
ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের স্বামী জানান, তারা নিজস্ব অর্থে পুরান মহিপুর থেকে ট্যাংক বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এরপরও অনলাইন খরচের কথা বলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন সুদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান। তিনি বলেন, ট্যাংক পরিবহনের সম্পূর্ণ ব্যয় নিজেকেই বহন করতে হয়েছে। পরে আবার অনলাইন খরচের অজুহাতে অর্থ নেওয়া হয়।
মহিপুরের কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, “ট্যাংক বাড়িতে আনতে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়েছি। এরপর আবার অনলাইন খরচের নামে টাকা নিয়েছে।”
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাব্বী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করারও চেষ্টা করা হয়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শোয়াইব বলেন, “টানা বৃষ্টি ও কাঁচা রাস্তার কারণে সব এলাকায় ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহন ভাড়া যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিশোধ না করা হয়ে থাকে এবং কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গত তিন দিন বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর ২১ জুলাই কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও ট্যাংক স্থাপনের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তদন্তে অনিয়ম বা চুক্তি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা হয়রানির শিকার না হন।




















