উচিতপুর ট্রলারঘাটে পোনা মাছ অবমুক্ত; জেলেদের অধিকার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
নেত্রকোণার মদনে হাওরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ: মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ, জেলেদের অধিকার নিশ্চিতের আশ্বাস
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেত্রকোণার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাটে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আমন্ত্রণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার নীতিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “জাল যার, জল তার”—এই নীতির আলোকে হাওরাঞ্চলের প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি মা মাছ ও পোনা মাছ আহরণ থেকে বিরত থেকে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি মোহনগঞ্জ, মদন, কেন্দুয়া হয়ে আঠারবাড়ি পর্যন্ত সম্ভাব্য রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার বলেন, হাওরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, হাওরাঞ্চলের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. খালেদ কনকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত বাস্তবায়িত হলে হাওরের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছের প্রজাতি পুনরুদ্ধার হবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলে পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাওরাঞ্চলে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, অবৈধ মাছ শিকার রোধ এবং প্রজনন মৌসুমে মা মাছ সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের হাওরাঞ্চলে মৎস্যসম্পদের পুনরুদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



















