সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও তরুণদের অনলাইন জুয়ায় আসক্তি; বাড়ছে ঋণ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়
কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

কালিয়াকৈর, গাজীপুর | ২ জুন ২০২৬ : গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বেকার তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে। ফলে পরিবারে অশান্তি, ঋণের বোঝা, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় ক্রমেই বাড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, হরতকিতলা, আমতলা, ডাইনকিনি, মাইওয়ান, মৌচাক, সফিপুর এবং কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান, রাস্তার মোড়, ব্রিজের নিচে কিংবা নির্জন স্থানে তরুণদের ছোট ছোট জটলা। অধিকাংশের হাতেই স্মার্টফোন। তারা বিভিন্ন অনলাইন জুয়া অ্যাপ যেমন থ্রি পাত্তি, লুডু ক্লাব, ক্যাসিনো এবং বাজিভিত্তিক বিভিন্ন গেমে অর্থ লেনদেন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজেই টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে। অনেকেই প্রথমে অল্প টাকায় লাভবান হয়ে পরে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, “শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে ৫০ টাকা জিতেছিলাম। এরপর লোভ বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার টাকা হারাচ্ছি। বাবার কাছে মিথ্যা বলতে হচ্ছে, বন্ধুদের কাছ থেকেও ধার নিতে হচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই।”
এক ভুক্তভোগী তরুণের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। অনলাইন জুয়ার কারণে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ১৫ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছে। এই জুয়া আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”
কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামীর মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকা হলেও মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ টাকা অনলাইন জুয়ার অ্যাপে হারিয়ে ফেলেন। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও অনলাইন জুয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং ঝরে পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক বিনোদনের ব্যবস্থা না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।























