চট্টগ্রাম ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ঝটিকা মিছিল, খাত্তাব মোল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ে অতিষ্ঠ পথচারী-শিক্ষার্থীরা,বাড়ছে জলাতঙ্কের শঙ্কা নান্দাইলে চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাণীশংকৈলে তীর্ণই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু রংপুরে লাইসেন্স ছাড়া বেকারি পণ্য উৎপাদন, আল মদিনা লাইভ বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কচুয়ার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক আতাউল করিম হাতীবান্ধায় নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ সার মজুত: দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি

সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও তরুণদের অনলাইন জুয়ায় আসক্তি; বাড়ছে ঋণ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়

কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার

শাকিল হোসেন
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কালিয়াকৈর, গাজীপুর | ২ জুন ২০২৬ : গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বেকার তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে। ফলে পরিবারে অশান্তি, ঋণের বোঝা, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় ক্রমেই বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, হরতকিতলা, আমতলা, ডাইনকিনি, মাইওয়ান, মৌচাক, সফিপুর এবং কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান, রাস্তার মোড়, ব্রিজের নিচে কিংবা নির্জন স্থানে তরুণদের ছোট ছোট জটলা। অধিকাংশের হাতেই স্মার্টফোন। তারা বিভিন্ন অনলাইন জুয়া অ্যাপ যেমন থ্রি পাত্তি, লুডু ক্লাব, ক্যাসিনো এবং বাজিভিত্তিক বিভিন্ন গেমে অর্থ লেনদেন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজেই টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে। অনেকেই প্রথমে অল্প টাকায় লাভবান হয়ে পরে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, “শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে ৫০ টাকা জিতেছিলাম। এরপর লোভ বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার টাকা হারাচ্ছি। বাবার কাছে মিথ্যা বলতে হচ্ছে, বন্ধুদের কাছ থেকেও ধার নিতে হচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই।”

এক ভুক্তভোগী তরুণের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। অনলাইন জুয়ার কারণে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ১৫ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছে। এই জুয়া আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামীর মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকা হলেও মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ টাকা অনলাইন জুয়ার অ্যাপে হারিয়ে ফেলেন। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও অনলাইন জুয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং ঝরে পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক বিনোদনের ব্যবস্থা না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও তরুণদের অনলাইন জুয়ায় আসক্তি; বাড়ছে ঋণ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়

কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার

আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কালিয়াকৈর, গাজীপুর | ২ জুন ২০২৬ : গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বেকার তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে। ফলে পরিবারে অশান্তি, ঋণের বোঝা, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় ক্রমেই বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, হরতকিতলা, আমতলা, ডাইনকিনি, মাইওয়ান, মৌচাক, সফিপুর এবং কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান, রাস্তার মোড়, ব্রিজের নিচে কিংবা নির্জন স্থানে তরুণদের ছোট ছোট জটলা। অধিকাংশের হাতেই স্মার্টফোন। তারা বিভিন্ন অনলাইন জুয়া অ্যাপ যেমন থ্রি পাত্তি, লুডু ক্লাব, ক্যাসিনো এবং বাজিভিত্তিক বিভিন্ন গেমে অর্থ লেনদেন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজেই টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে। অনেকেই প্রথমে অল্প টাকায় লাভবান হয়ে পরে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, “শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে ৫০ টাকা জিতেছিলাম। এরপর লোভ বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার টাকা হারাচ্ছি। বাবার কাছে মিথ্যা বলতে হচ্ছে, বন্ধুদের কাছ থেকেও ধার নিতে হচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই।”

এক ভুক্তভোগী তরুণের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। অনলাইন জুয়ার কারণে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ১৫ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছে। এই জুয়া আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামীর মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকা হলেও মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ টাকা অনলাইন জুয়ার অ্যাপে হারিয়ে ফেলেন। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও অনলাইন জুয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং ঝরে পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক বিনোদনের ব্যবস্থা না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।