প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা থাকলেও গোপনে সম্পন্ন প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত ৭টি গাছ কাটার অভিযোগে ক্ষোভ
কুড়িগ্রামে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোপন নিলামের অভিযোগ: ২১টির বদলে কাটা হয়েছে ২৮টি সরকারি গাছ
- আপডেট সময় : ০৬:০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সরকারি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোপন নিলাম ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা থাকলেও তা গোপনে সম্পন্ন করে নামমাত্র মূল্যে পছন্দের ব্যক্তির কাছে গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
জানা গেছে, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণের জন্য ১৭টি মেহগনি ও ১টি কাঁঠাল গাছসহ মোট ২১টি গাছ নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৫ মার্চ নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে সেখানে কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে উঠে আসে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সদর উপজেলা ভূমি অফিসে সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে গোপনে নিলাম সম্পন্ন করা হয়। মাত্র তিনজন অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম শেষ দেখানো হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত নুর আলম নিজেই জানান, তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোথায়, কবে নিলাম হয়েছে তা জানেন না। তার দাবি, তার হয়ে তার মামা নিলামে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিলামে ২১টি গাছ বিক্রি করা হলেও ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে মোট ২৮টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অতিরিক্ত ৭টি গাছ কাটার মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাছ কাটার সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম।
অন্যদিকে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, লে-আউটের প্রয়োজনে ২-১টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে এবং তা এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





















