অর্থ আত্মসাৎ ও হিসাব গোপনের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি
স্বজনের প্রতারণায় ধ্বংসের মুখে ভাইরাল কাকলী ফার্নিচার, সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন চেয়ারম্যান
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

একসময়ের সফল ও জনপ্রিয় উদ্যোক্তা থেকে দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে—স্বজনের প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ধ্বংসের মুখে পড়েছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাকলী ফার্নিচার। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস এম সোহেল রানা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় কাকলী ফার্নিচারের মাওনা চৌরাস্তার শো-রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের একপর্যায়ে তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক, পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের চোখেও জল চলে আসে।
লিখিত বক্তব্যে এস এম সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার বোন জামাই আমান উল্লাহ (৪০) ও বোন কাকলী আমান (৩৫) পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাকলী ফার্নিচারের অর্থ, জমি ও যানবাহন আত্মসাৎ করেছেন। তাদের অনিয়ম, প্রতারণা ও হিসাব গোপনের কারণেই আজ একটি সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পথে।
তিনি জানান, তার বাবা মরহুম আবুল কাশেম ২০০০ সালে সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কাকলী ফার্নিচার প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরবর্তীতে আমান উল্লাহকে ব্যবসায় যুক্ত করা হলেও দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হন। তবুও পারিবারিক বিশ্বাসে তাকে অলিখিতভাবে অংশীদার করা হয়, যা পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ব্যবসার অর্থ দিয়ে ছয়টি জমি ক্রয় করা হলেও সেগুলোর কোনো স্বচ্ছ হিসাব আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এছাড়া কাকলী ফার্নিচারের মালিকানাধীন একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার—যার আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা—জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে যৌথ মালিকানাধীন একটি ফাউন্ডেশন বাড়িও এককভাবে বসবাস ও গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এস এম সোহেল রানা আরও জানান, হিসাবের অনিয়মের কারণে বর্তমানে কাকলী ফার্নিচারের নামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ এবং প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনাদারের দায় সৃষ্টি হয়েছে। হিসাব চাইলে প্রতিপক্ষরা তালবাহানা ও হুমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি আমান উল্লাহর বাবা জালাল উদ্দিন ফরাজি শো-রুমে ঢুকে বেতের লাঠি দিয়ে অতর্কিত হামলা করে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় ‘দামে কম, মানে ভালো’ স্লোগানে কাকলী ফার্নিচার দেশব্যাপী আলোচিত ও ভাইরাল হয়। অথচ আজ সেই প্রতিষ্ঠানই দেউলিয়ার পথে। দীর্ঘদিনের স্বজনের প্রতারণায় তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এস এম সোহেল রানা দেশবাসী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। একই সঙ্গে তার পিতার সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।























