ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে থমকে গেছে জনজীবন, বাড়ছে শীতজনিত রোগ
হাড় কাপানো শীতে যবুথবু কুড়িগ্রামের মানুষ, মিলছে না পর্যাপ্ত শীতনিবারণ সামগ্রী
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
নদ-নদী বেষ্টিত, সীমান্ত ঘেঁষা ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা কুড়িগ্রামে চলমান হাড় কাঁপানো শীত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ায় যবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার নিম্নআয় ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতনিবারণ সামগ্রীর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে শীত যেন থামছেই না। রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে কুয়াশা। বিকাল থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। সেই সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায়ও সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে, ফলে বিপাকে পড়েছে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
গত তিন দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আজ (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ।
ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী মানুষ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের শহিদ মিয়া বলেন, “কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কিন্তু এই শীতে কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে, শরীর কামড়ায়।”
ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোকন মিয়া জানান, “আমরা গরিব মানুষ, কম্বল কেনার টাকা নাই। এখন পর্যন্ত কোনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান আমাদের কম্বল দেয়নি।”
অপরদিকে, অতিরিক্ত শীতের প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ছোট বাচ্চাটা কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, শীতের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, চলতি শীত মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল এবং নগদ ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীতনিবারণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।














