গ্রামবাসীর স্বস্তি—যুবদলের অর্থায়নে ৮০ মিটার ভাসমান সেতু চালু
দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান: সতী নদীর উপর ভাসমান সেতু নির্মাণ করল যুবদল
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

আদিতমারী উপজেলা প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের চিড়া মধুরামপুর গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান হলো। সতী নদীর উপর স্থায়ী সেতু না থাকায় বহু বছর ধরে স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো অথবা বর্ষাকালে নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতেন। অবশেষে যুবদল ও গ্রামবাসীর অর্থায়নে একটি ভাসমান সেতু নির্মিত হয়েছে, যা গ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও চিকিৎসা কেন্দ্রসহ জরুরি কাজে পারাপারের সময় চরম দুর্ভোগের শিকার হতেন। বর্ষায় নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার হতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
যুবদলের সদস্যরা জানান, বাঁশ, কাঠ ও বড় সাইজের ড্রাম ব্যবহার করে প্রায় ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২ মিটার প্রস্থের ভাসমান সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। দশ দিনের টানা নির্মাণ কাজ শেষে শুক্রবার বিকেল থেকে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
৭০ বছর বয়সী কৃষক আতাউর রহমান বলেন, “অনেক দিন ধরে কংক্রিট সেতুর দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যুবদলের ছেলেরা নিজেদের টাকায় সেতু বানিয়ে দিয়েছে—এতে উপকার হয়েছে, তবে স্থায়ী কংক্রিট সেতু খুবই প্রয়োজন।”
রিকশাচালক মালেক জানান, “এখন রিকশা নিয়ে পারাপার অনেক সহজ হয়েছে। আগে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হতো।”
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাসান আলী জানান, “এলাকাবাসীর কষ্ট দেখে আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সেতুটি নির্মাণ করেছি। এর আগে হারাটি ইউনিয়নে আরও দুটি সেতু নির্মাণ করেছি। সামনে আরও দুটি সেতু বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিস বলেন, “গত তিন মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমরা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার মেঠোপথ সংস্কার করেছি। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা আমাদের দায়িত্ব।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু যুবদলের উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলেন, “মানুষের পাশে থাকার এই কাজ রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক উদাহরণ।” তিনি মধুরামপুর এলাকায় কংক্রিট সেতু নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসার আলম বলেন, “সীরা মধুরামপুর এলাকায় পরিদর্শন করে সতী নদীর উপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। ইতিবাচক হলে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”























