দলীয় দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থী আহত, থানায় অভিযোগ প্রস্তুত
হরিরামপুরে যুবদল নেতা মাসুম শিকদারের উপর অতর্কিত হামলা, এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ৬৪৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদারের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বহলাতুলী বাজারে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর তুমুল সংঘর্ষে শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহলাতুলী বাজারে সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত প্যানেলের কর্মীরা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা প্যানেলের কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা চলাকালে বিরোধের সূত্র ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।” সংঘর্ষে অন্তত কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদার গুরুতরভাবে আহত হন। তাকে প্রথমে হরিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত মাসুম শিকদার জানান, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
মাসুম শিকদারের পরিবার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমরা হামলাকারীদের চিহ্নিত করেছি। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।”
অপরদিকে, সংঘর্ষে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী সিয়াম গুরুতর আহত হয়। সে জানায়, “বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ কয়েকজন যুবক দলীয় শ্লোগান দিতে দিতে আমাকে মারধর করে।”
হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সা’দাত মোঃ শাহিন মোল্লা (মোল্লা শাহীন) বলেন, “যুবদল নেতা মাসুম শিকদারের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করছি।”
তবে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা মোঃ গোলাম রসূল শাহীন দাবি করেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কেউ যদি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আক্রমণ করে থাকে, দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতের খবর পেয়েছি, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”














