কাশিয়াডাংগায় জুয়ার বোর্ডে অভিযান, দেড় লক্ষ টাকায় অভিযুক্ত জুয়াড়ি মুক্তির অভিযোগ—জনমনে ক্ষোভ, পুলিশের দায়িত্বহীনতা প্রশ্নবিদ্ধ
কাশিয়াডাংগা পুলিশ বক্সের এসআই মিতুলের বিরুদ্ধে ঘুষ, জুয়ার বোর্ডে ছাড়–সহ বিস্ফোরক অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ৪২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর কাশিয়াডাংগা পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই এম এন মিতুলকে ঘিরে একের পর এক ভয়াবহ ও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে। জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালিয়ে টাকা নিয়ে জুয়াড়ি ছেড়ে দেওয়া, বিভিন্ন এলাকার জুয়া–মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ, ফুটপাতের অবৈধ দোকান ও স্থাপনাগুলো থেকে চাঁদা উত্তোলন—এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাশিয়াডাংগা মোড়, আশপাশের বাজার এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন স্পটে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদকের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেন এসআই মিতুল। ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে ২৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে, সায়েরগাছা রেলক্রসিং এলাকার একটি মুরগির খামারে পরিচালিত জুয়ার আসরে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযানে রাজা নামে এক জুয়ারিকে আটক করা হলেও তাকে পরে পুলিশ বক্সে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই “ছাড়ের” পেছনে দেড় লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। কিন্তু অভিযানে ব্যবহৃত তাস কিংবা উদ্ধার হওয়া নগদ কোনো টাকা–পয়সা জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি।
স্থানীয়রা আরও বলেন,
> “এসআই মিতুল এখন পুরো এলাকাজুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ উঠলেই অর্থের বিনিময়ে সমাধান করা হয়। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মিতুল বলেন,
> “জুয়ার বোর্ড থেকে একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কোনো টাকা–পয়সা নেওয়া হয়নি। পুরো বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।”
কাশিয়াডাংগা থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল বারী ইবনে জলিল বলেন,
> “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। দিনাজপুরে স্বাক্ষী দিতে এসেছি। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। এমন কিছু হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, থানার ওসি তদন্ত আজিজ মণ্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সরকারি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,
> “একটির পর একটি অভিযোগ সামনে আসলেও যদি তদন্ত ঝুলে থাকে, তাহলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
গতকালের অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে তিনজনকে আটক করা হলেও দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং একজনকে পুলিশ বক্সে নেওয়ার পর তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। নগদ টাকা ও তাস উদ্ধার করা হলেও সেগুলো জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।























