ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল, ভূঞাপুরের খবর, টাঙ্গাইলের খবর, বিয়ের দাবিতে অনশন, প্রেমিকের বাড়িতে অনশন, প্রেমের সম্পর্ক, তরুণীর অনশন, সোলাইমান হাসান সানী, আফরোজা আক্তার বৃষ্টি, গোবিন্দাসী, রাউৎবাড়ি, ভূঞাপুর থানা, টাঙ্গাইল সংবাদ
ভূঞাপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, পলাতক প্রেমিক
- আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল | ৩১ আগস্ট ২০২৬: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন আফরোজা আক্তার বৃষ্টি নামে এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেমিক সোলাইমান হাসান সানী (৩১) বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ি এলাকায়। অনশনরত তরুণী আফরোজা আক্তার বৃষ্টি ওই এলাকার প্রবাসী আব্দুল হাই আকন্দের মেয়ে। আর অভিযুক্ত সোলাইমান হাসান সানী একই গ্রামের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল আকন্দের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির সঙ্গে সানীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃষ্টির দাবি, সানী তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় আট বছর ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এ সম্পর্কের বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ ও ডকুমেন্ট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃষ্টি বলেন, “আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন আমাকে বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি বিয়ের দাবিতে এখানে অবস্থান নিয়েছি।”
বৃষ্টির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে সানীর প্রথম স্ত্রী তাকে তাদের বাড়িতে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে শনিবার রাত ৮টার দিকে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগে সানী বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্তমানে সানীর বাড়িতে অবস্থান করে অনশন করছেন বৃষ্টি। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও সানী উপস্থিত না থাকায় তা এগোয়নি।
সানীর প্রথম স্ত্রী সুমি জানান, “এই সম্পর্কের বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না।” স্থানীয়দের দাবি, সানীর প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত সোলাইমান হাসান সানীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে বৃষ্টির অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনশনরত বৃষ্টি ও স্থানীয়রা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ. কে. এম. রেজাউল করিম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আইনগতভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত বিষয়, সম্পর্কের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।























