সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের জৈবিক সম্পর্কের প্রমাণ; দ্রুত বিচার শেষ করার আশা রাষ্ট্রপক্ষের
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, মদনে ধর্ষণ মামলার সেই মাদ্রাসাশিক্ষকই নবজাতকের জৈবিক বাবা
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

মদন, নেত্রকোনা | ২৪ আগস্ট ২০২৬ :
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের সঙ্গে জৈবিক সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাকে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর নুরুল কবীর রুবেল জানান, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসক শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
সেফ হোমে কন্যাশিশুর জন্ম
ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের জৈবিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এখন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে রাষ্ট্রপক্ষ নজর দিচ্ছে।























