আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ, খরা ও বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ফেরায় আফগানিস্তানে শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
মানবিক সহায়তা কমতেই আফগানিস্তানে অপুষ্টির শিকার লাখো শিশু
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩৭ লাখ শিশু ২০২৬ সালে তীব্র অপুষ্টিতে (Acute Malnutrition) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। অর্থায়ন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিপুলসংখ্যক আফগান শরণার্থীর দেশে ফেরার কারণে দেশটির শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে সেভ দ্য চিলড্রেনের নতুন তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় প্রতি ১০ শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘের সমন্বিত খাদ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফগানিস্তানে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৭ লাখ শিশু acute malnutrition-এর শিকার হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ শিশুর severe acute malnutrition বা গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মোট acute malnutrition-এর বোঝা প্রায় ৭ শতাংশ এবং severe acute malnutrition প্রায় ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ৬০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইউনিসেফের ২০২৬ সালের মানবিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে ৩৭ লাখের মতো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু wasting বা তীব্র অপুষ্টির শিকার হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু severe wasting-এর ঝুঁকিতে রয়েছে, যা জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি করে।
আফগানিস্তানের মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, অর্থের ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে শিশুদের অপুষ্টি ও খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে।
ইরান ও পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিক দেশে ফেরায় দুর্বল স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরান থেকে ৬০ লাখের বেশি আফগান দেশে ফিরেছেন বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই বিপুলসংখ্যক মানুষের পুনর্বাসন, খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আফগানিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী খরা, বন্যা, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা আফগান পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করেছে। UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফগানিস্তানে ৭৫ লাখ মানুষের পুষ্টি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসংকট শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা না গেলে গুরুতর অসুস্থতা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সেভ দ্য চিলড্রেন আফগানিস্তানে শিশুদের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত অর্থায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হওয়া এবং পুষ্টি কর্মসূচিতে অর্থের ঘাটতি শিশুদের জন্য জীবন-মৃত্যুর সংকট তৈরি করছে।
আফগানিস্তানের চলমান মানবিক সংকটে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, নিরাপদ পানি, চিকিৎসা এবং পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর একটি।
সূত্র: আল জাজিরা, Save the Children, UNICEF, IPC, UNHCR























