কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি, সবজি-মাছ-ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
কালিয়াকৈরে সবজির বাজারে ফের অস্থিরতা, কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি; মাছ, ডিম ও মুরগির দামও চড়া
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) | ৩১ জুলাই ২০২৬ : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছ, পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারের ব্যয় বেড়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে কালিয়াকৈর বাজার, চন্দ্রা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। এছাড়া পটোল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, কচুরমুখি ৮০-১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি পিস এবং কেপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দাম কমেনি। চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বড় আকারের শোল, রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
ইলিশের বাজারেও উচ্চমূল্য বিরাজ করছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, সবজি ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বাজার তদারকি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।























