দুই বছর আত্মগোপনে থেকে হত্যা-গুমের নাটক; তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে জীবিত উদ্ধার, তদন্তে নতুন মোড়
গুমের নাটক সাজিয়ে ২ বছর আত্মগোপন: নির্দোষ ঠিকাদারকে ৪ মাস জেল খাটিয়ে জীবিত উদ্ধার ‘নিখোঁজ’ মোস্তফা কামাল
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর ধরে আত্মগোপনে থেকে নিজের অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা করানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে কথিত নিখোঁজ যুবক মোস্তফা কামালকে (২৮)। এ ঘটনায় নির্দোষ দাবি করা স্থানীয় ঠিকাদার জামান মিয়া টানা চার মাস কারাভোগ করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মোস্তফা কামালের বাড়ি শেরপুর জেলায় হলেও তার পরিবার কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করত। তিনি রাজমিস্ত্রি ও সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কাজের সময় কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঠিকাদার জামান মিয়ার অভিযোগ, মোস্তফা কামাল প্রায় চার লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে কাজ অসমাপ্ত রেখে আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে মোস্তফা কামালের মা মনোয়ারা বেগম আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেন, জামান মিয়া ও তার সহযোগীরা মোস্তফাকে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করেছেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলা রুজু হলে পুলিশ প্রধান আসামি হিসেবে জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনি টানা চার মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
জামান মিয়া বলেন, মিথ্যা মামলার কারণে তার ব্যবসা, সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল হক জানান, তদন্তে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান জোরদার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ভোগড়াচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সেখানে তিনি স্বাভাবিকভাবে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন এবং নতুন করে বিয়ে করে সংসারও গড়ে তুলেছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্দোষ মানুষকে হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া যুবককে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং পরিবারের সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তকে বিভ্রান্ত করেছেন কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























