তথ্যগত ত্রুটির কারণে বিতরণ হয়নি বলে দাবি কর্মকর্তার; সরকারি অর্থের অপচয় ও সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আহ্বান স্থানীয়দের।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সরকারি অর্থে ছাপানো ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার | ৯ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর বিতরণ না করে বস্তাবন্দী অবস্থায় সংরক্ষণ করে রাখার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সম্ভাব্য অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার্থে কার্ডগুলো ছাপানো হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, কার্ডগুলোর তথ্যে ত্রুটি এবং কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় সেগুলো বিতরণ করা হয়নি।
তবে এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, তথ্যগত ত্রুটি থাকলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন? বিষয়টি সময়মতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি কেন? আর দীর্ঘদিন ধরে কার্ডগুলো বস্তাবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকল কীভাবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ড ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, এটি শুধুই প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা কিংবা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ এবং এ ঘটনায় সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।























