সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ জন; অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০; বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ২০ থেকে ২৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) রাতে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে হাবিবুর রহমান মোল্যার সমর্থক হাফিজুল মাতুব্বরকে প্রতিপক্ষ আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য রোববার সালথা থানায় একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
হাবিবুর রহমান মোল্যার সমর্থকরা সালিশে অংশ নিতে সম্মত হলেও আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা এতে অস্বীকৃতি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সুযোগে অন্তত ২০-২৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান মোল্যা এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আজিজুল মোল্যা।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের প্রধান নেতা হাবিবুর রহমান মোল্যা ও আজিজুল মোল্যা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
























