খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের ছায়া, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আশঙ্কা
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি – জীবনের শেষ জনসভা বক্তৃতা
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইলিয়াছ খান |
(সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
আজ রবিবার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোরে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর মাত্র ১১ দিন আগে তিনি সর্বশেষবারের মতো জনসম্মুখে ভাষণ দেন। সেই বক্তৃতায় তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি, বিশেষ করে জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলাকালীন সময়ে দেওয়া ওই ভাষণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
শেষ বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে। যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে সেটি শত্রুর পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে আরও বলেন,“আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তারা বলে তোমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর বেশি নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানি জাতির সিদ্ধান্তের বিষয়।”
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জবাবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো এমন শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, যার পর আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, তার এই বক্তব্য ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। সমর্থকদের মতে, এটি ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের প্রকাশ। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
দীর্ঘ কয়েক দশক নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার প্রয়াণ ইরানের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।























