নদীভাঙন ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় শক্তিশালী নারী কণ্ঠ চায় কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা: বিএনপির ৩৫ নারী এমপি মনোনয়ন ঘিরে নতুন সমীকরণ
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি |
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এদিকে কুড়িগ্রামেও সম্ভাব্য নারী নেত্রীদের তৎপরতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের একটিতেও বিএনপি জয় পায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি—ভোটারের সাড়া কম ছিল না; বরং ১১ দলীয় জোটের কৌশলগত সমন্বয়ের কারণে পরাজয় এসেছে।
উন্নয়নের প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুড়িগ্রাম থেকে একজন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হলে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-সংকট জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এতে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও তৃণমূলকে চাঙা করতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের পশ্চাৎপদতার শিকার। ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা নদ অববাহিকার ভাঙনে প্রতিবছর বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও নাজুক। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হলে সংসদে শক্তিশালী কণ্ঠ প্রয়োজন। সে প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে কুড়িগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।
যাদের নাম আলোচনায়
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে যেসব নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি,
কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা বেগম মিলি কায়কোবাদ,
জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিউটি,
বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. রেয়ান আনিস,
জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রেশমা সুলতানা,
এবং জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন।
তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও নারী সংগঠনে সক্রিয়। তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় কার ঝুলিতে মনোনয়ন যাবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত বার্তা:
দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা—এবার অন্তত সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জেলার জন্য কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি মানে শুধু প্রতীকী পদ নয়—বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো দীর্ঘদিনের সংকট জাতীয় অগ্রাধিকারে তোলার একটি সুযোগ।”
এখন চোখ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কুড়িগ্রাম কি পাবে সেই কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য—সেটিই দেখার অপেক্ষা।























