যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেহাল দশা; গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।
মণিরামপুর বাজারের ৭০০ মিটার সড়কে ৫০টির বেশি গর্ত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
- আপডেট সময় : ১২:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজারের মাত্র ৭০০ মিটার সড়কজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গো-হাট মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ গেট পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ধানহাট, পূর্ববী সিনেমা হল গেট, থানা মোড়, কলাহাট মোড়, প্রেসক্লাব গেট থেকে রাজগঞ্জ মোড় পর্যন্ত অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা থেমে সড়কের বেহাল অবস্থা দেখছেন, অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দায়িত্বশীলদের নজরদারি ও কার্যকর সংস্কার না থাকায় বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি নৈশ কোচের চালক ইসমাইল (ছদ্মনাম) বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গাড়ি চালাই। কিন্তু মণিরামপুর বাজারে ঢুকতে হবে শুনলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। গর্ত পার হতে বারবার ব্রেক করতে হয়, গিয়ার পরিবর্তন করতে হয়। এতে সময়ও নষ্ট হয়, আবার যাত্রীরাও বিরক্ত হন।”
একজন পণ্যবাহী ট্রাকচালক বলেন, “শুধু গর্ত ভরাট করলেই হবে না। রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নির্মাণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং সড়কের দুই পাশে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন থাকায় পানি জমে দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং যানজটও তীব্র আকার ধারণ করছে।
এদিকে জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ একটি ভ্রাম্যমাণ সংস্কারকারী দল পাঠিয়ে ইট ও বালু দিয়ে সাময়িকভাবে কয়েকটি গর্ত ভরাট করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত টেকসই সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী সংস্কার, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















