চট্টগ্রাম ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যয় ও বাজার তদারকি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ; বাজেটের সুফল পৌঁছাবে কি জনগণের দোরগোড়ায়?

নতুন বাজেট ২০২৬: নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নাকি নতুন চাপ? সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

গৌতম কুমার
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা | ১১ জুন ২০২৬ : জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমিত আয়ের সঙ্গে খরচের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ।

মূল্যস্ফীতির চাপেই সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তাঃ
গত এক বছরে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, মাছ ও সবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন,
“বেতন বাড়ে না, কিন্তু প্রতিবার বাজেটের পর বাজারের খরচ বাড়ে। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে চাল-ডালের দাম কমানো। উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে সংসারের বাজারের স্বস্তি এখন বেশি প্রয়োজন।”

গৃহিণী ফাতেমা বেগম জানান, “আগে এক হাজার টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত। এখন দুই দিনের বাজার করতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। নতুন বাজেটের পর যদি দাম আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হবে।”

মোবাইল ও ইন্টারনেট খরচ বাড়ার আশঙ্কাঃ নতুন বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কিছু কর পুনর্বিন্যাসের কারণে মোবাইল কলরেট এবং ইন্টারনেট সেবার খরচ বাড়তে পারে বলে বাজারে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাফসান আহমেদ বলেন,
“বর্তমানে শিক্ষা, গবেষণা ও অনলাইন ক্লাসের জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য। ডেটা খরচ বাড়লে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।”

ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তারাও ইন্টারনেট ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে ইন্টারনেটকে আরও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগঃ ব্যবসায়ী মহলের একাংশ মনে করছে, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসা পরিচালনা আগেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, নতুন করনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণঃ অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক দিক। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে।” তিনি আরও বলেন, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

 

বাজার তদারকি জোরদারের দাবিঃ সচেতন নাগরিক, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং সাধারণ ক্রেতাদের প্রধান দাবি হচ্ছে— বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। তাদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজেটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাঃ অর্থনীতির বড় সূচক, প্রবৃদ্ধি কিংবা রাজস্ব আয়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয়।

নতুন বাজেট কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাজারে মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে তার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যয় ও বাজার তদারকি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ; বাজেটের সুফল পৌঁছাবে কি জনগণের দোরগোড়ায়?

নতুন বাজেট ২০২৬: নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নাকি নতুন চাপ? সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

আপডেট সময় : ১১:১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ঢাকা | ১১ জুন ২০২৬ : জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমিত আয়ের সঙ্গে খরচের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ।

মূল্যস্ফীতির চাপেই সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তাঃ
গত এক বছরে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, মাছ ও সবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন,
“বেতন বাড়ে না, কিন্তু প্রতিবার বাজেটের পর বাজারের খরচ বাড়ে। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে চাল-ডালের দাম কমানো। উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে সংসারের বাজারের স্বস্তি এখন বেশি প্রয়োজন।”

গৃহিণী ফাতেমা বেগম জানান, “আগে এক হাজার টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত। এখন দুই দিনের বাজার করতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। নতুন বাজেটের পর যদি দাম আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হবে।”

মোবাইল ও ইন্টারনেট খরচ বাড়ার আশঙ্কাঃ নতুন বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কিছু কর পুনর্বিন্যাসের কারণে মোবাইল কলরেট এবং ইন্টারনেট সেবার খরচ বাড়তে পারে বলে বাজারে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাফসান আহমেদ বলেন,
“বর্তমানে শিক্ষা, গবেষণা ও অনলাইন ক্লাসের জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য। ডেটা খরচ বাড়লে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।”

ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তারাও ইন্টারনেট ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে ইন্টারনেটকে আরও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগঃ ব্যবসায়ী মহলের একাংশ মনে করছে, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসা পরিচালনা আগেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, নতুন করনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণঃ অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক দিক। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে।” তিনি আরও বলেন, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

 

বাজার তদারকি জোরদারের দাবিঃ সচেতন নাগরিক, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং সাধারণ ক্রেতাদের প্রধান দাবি হচ্ছে— বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। তাদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজেটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাঃ অর্থনীতির বড় সূচক, প্রবৃদ্ধি কিংবা রাজস্ব আয়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয়।

নতুন বাজেট কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাজারে মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে তার ওপর।