স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা জোরালো
মেয়াদ শেষেও চসিক মেয়রের দায়িত্বে থাকতে চান ডা. শাহাদাত হোসেন, আইনি বিতর্ক তুঙ্গে
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

মোনতাহেরুল হক আমিন |
বাঁশখালী প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্তমান পর্ষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি)।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়। সে হিসেবে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হওয়ায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্বে থাকতে চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আইনি বিতর্ক।
মেয়র দাবি করেছেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯–এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকতে পারবেন।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ‘সেকশন সিক্স’ প্রযোজ্য হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন।
তবে আইনবিদরা বলছেন, ২০১১ সালে সংশোধিত আইনে এই সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন ২০১১–এর মাধ্যমে আগের পর্ষদের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়।
বর্তমানে আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছরই করপোরেশনের মেয়াদ।
আইনের পরিশিষ্ট অংশ অনুযায়ী, সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ পর্ষদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২০১১ সালের পর থেকে মেয়াদ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়রের ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ার কথা বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশাসক নিয়োগের নজিরও রয়েছে চট্টগ্রামে। করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের মেয়াদ শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নতুন পর্ষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯–এর ৬০ নম্বর ধারার উপধারা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হলে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগই একমাত্র আইনসম্মত পথ হতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রামসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে। আইনে মেয়াদের শেষ ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতের রায়ের মাধ্যমে ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত রায় দেন এবং নির্বাচন কমিশন সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে।
বর্তমানে মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে দায়িত্বে থাকার প্রশ্নে আইনি অবস্থান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে চসিকের পরবর্তী পরিস্থিতি।














