চট্টগ্রাম ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

গানের তালে তালে রোপণ, শুরু হয়েছে এন-৫৩ ও মুড়িকাটা উত্তোলন

তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক, গানে গানে চলছে রোপণ

: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোর থেকেই চারা হাতে মাঠে নামছেন তারা। কোথাও চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণ, আবার কোথাও চলছে মুড়িকাটা ও ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলন।
সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। কাজের একঘেয়েমি দূর করতে কৃষকেরা মাইক বাজিয়ে গানের তালে তালে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নাচতেও দেখা যায় শ্রমিকদের। এতে কাজের গতি বাড়ছে এবং শ্রমিকদের মনোবলও চাঙা থাকছে।
ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে কৃষকেরা কাদাপানি মাড়িয়ে জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। শীতের কারণে শ্রমিক সংকট থাকলেও জীবিকার তাগিদে মাঠের কাজ থেমে নেই।
কান্তার বিলের চাষি সোহাগ ও নাহিদ বলেন, “শীতের সময় অনেক শ্রমিক মাঠে আসতে চান না। তাই সবাইকে উৎসাহিত রাখতে আমরা গান বাজিয়ে একসঙ্গে কাজ করি। এতে ক্লান্তি কম লাগে।”
চাষিদের একটি দলের প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক জানান, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেন তারা। চলতি মৌসুমে তার দল প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ সম্পন্ন করেছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় মুড়িকাটা ও ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে সন্তুষ্ট বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকেরা।
বানেশ্বর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় মোতালেব হোসেন ৪ বিঘা, মনসুর আলী ২ বিঘা এবং আশরাফ আলী ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেছেন।
কৃষকদের মতে, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম। চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজে এক কেজি হয়।
চাষি মনসুর আলী জানান, এক বিঘা জমি থেকে তিনি ইতোমধ্যে ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে প্রতি মন ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ রোপণ হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গানের তালে তালে রোপণ, শুরু হয়েছে এন-৫৩ ও মুড়িকাটা উত্তোলন

তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক, গানে গানে চলছে রোপণ

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোর থেকেই চারা হাতে মাঠে নামছেন তারা। কোথাও চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণ, আবার কোথাও চলছে মুড়িকাটা ও ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলন।
সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। কাজের একঘেয়েমি দূর করতে কৃষকেরা মাইক বাজিয়ে গানের তালে তালে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নাচতেও দেখা যায় শ্রমিকদের। এতে কাজের গতি বাড়ছে এবং শ্রমিকদের মনোবলও চাঙা থাকছে।
ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে কৃষকেরা কাদাপানি মাড়িয়ে জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। শীতের কারণে শ্রমিক সংকট থাকলেও জীবিকার তাগিদে মাঠের কাজ থেমে নেই।
কান্তার বিলের চাষি সোহাগ ও নাহিদ বলেন, “শীতের সময় অনেক শ্রমিক মাঠে আসতে চান না। তাই সবাইকে উৎসাহিত রাখতে আমরা গান বাজিয়ে একসঙ্গে কাজ করি। এতে ক্লান্তি কম লাগে।”
চাষিদের একটি দলের প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক জানান, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেন তারা। চলতি মৌসুমে তার দল প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ সম্পন্ন করেছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় মুড়িকাটা ও ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে সন্তুষ্ট বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকেরা।
বানেশ্বর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় মোতালেব হোসেন ৪ বিঘা, মনসুর আলী ২ বিঘা এবং আশরাফ আলী ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেছেন।
কৃষকদের মতে, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম। চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজে এক কেজি হয়।
চাষি মনসুর আলী জানান, এক বিঘা জমি থেকে তিনি ইতোমধ্যে ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে প্রতি মন ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ রোপণ হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।