চট্টগ্রাম ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ফাঁস হওয়া ভিডিও ও কল রেকর্ডে চাঞ্চল্য, এলাকাবাসীর দাবি—বিচার ও দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা

মাদারীপুরে এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য ও অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ফাঁস, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মাহামুদুল হাসান, মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, নারীদের কুপ্রস্তাব, অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ দিয়ে হয়রানি, আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও, কল রেকর্ড ও ছবি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী এক নারী সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেরাজুল ইসলাম তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে আবারও টাকা দাবি ও হুমকি দেন তিনি।

মেরাজুল ইসলাম মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের সিরাজ বেপারীর ছেলে। একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে পরপর চারটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি এনসিপির সদস্য হয়ে অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বেগ বলেন, “নারী কেলেঙ্কারি ও স্কুলের টাকা চুরির অপরাধে মেরাজুলকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি স্কুল থেকেও তাকে একই কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়।”

এনসিপির অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, মেরাজুল মামলা বাণিজ্য করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানায় মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে রাজৈরের হোসেনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, “মেরাজুল ও তার সহযোগীরা মামলা থেকে নাম কাটানোর কথা বলে টাকার দাবি করেছিল। ভয় পেয়ে আমরা অনেকেই চুপ ছিলাম।”

তবে মেরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফাঁস হওয়া ভিডিও আমার হারিয়ে যাওয়া ফোনের বিষয়।”

মাদারীপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, “যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কেউ মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফাঁস হওয়া ভিডিও ও কল রেকর্ডে চাঞ্চল্য, এলাকাবাসীর দাবি—বিচার ও দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা

মাদারীপুরে এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য ও অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ফাঁস, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, নারীদের কুপ্রস্তাব, অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ দিয়ে হয়রানি, আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও, কল রেকর্ড ও ছবি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী এক নারী সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেরাজুল ইসলাম তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে আবারও টাকা দাবি ও হুমকি দেন তিনি।

মেরাজুল ইসলাম মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের সিরাজ বেপারীর ছেলে। একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে পরপর চারটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি এনসিপির সদস্য হয়ে অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বেগ বলেন, “নারী কেলেঙ্কারি ও স্কুলের টাকা চুরির অপরাধে মেরাজুলকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি স্কুল থেকেও তাকে একই কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়।”

এনসিপির অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, মেরাজুল মামলা বাণিজ্য করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানায় মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে রাজৈরের হোসেনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, “মেরাজুল ও তার সহযোগীরা মামলা থেকে নাম কাটানোর কথা বলে টাকার দাবি করেছিল। ভয় পেয়ে আমরা অনেকেই চুপ ছিলাম।”

তবে মেরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফাঁস হওয়া ভিডিও আমার হারিয়ে যাওয়া ফোনের বিষয়।”

মাদারীপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, “যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কেউ মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”