চট্টগ্রাম ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

মাছুয়াপাড়ায় চার খুনের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহের সময় মোটরসাইকেল আটকে চাবি নেওয়ার অভিযোগ; পরে ডিবি এসে ব্যাগ তল্লাশি করে

রংপুরে চার খুনের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ, ‘মব’ তৈরির দাবি

মনোয়ারুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর, ২৯ আগস্ট ২০২৬: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক সেলিম সরকার হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনি তিন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তাঁর মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি নিয়ে নেন।

সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। তাঁর ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সেখানে যায়। সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগ খুলে দেখেন। তবে ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এরপর সেলিম সরকারকে যেতে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। এ সময় কয়েকজন তাঁকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও পার্থ দাস উল্টো তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, চার খুনের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস ও তাঁর বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তাঁরা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। তাঁদের আচরণে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে ডিবি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাঁর ব্যাগ খুলে দেখেন। সেখানে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি।

এদিকে, রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এরই মধ্যে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার পরবর্তীতে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে দেওয়া হয়।

২৯ আগস্ট বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আটকে রাখা, তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি নেওয়া এবং স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাছুয়াপাড়ায় চার খুনের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহের সময় মোটরসাইকেল আটকে চাবি নেওয়ার অভিযোগ; পরে ডিবি এসে ব্যাগ তল্লাশি করে

রংপুরে চার খুনের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ, ‘মব’ তৈরির দাবি

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর, ২৯ আগস্ট ২০২৬: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক সেলিম সরকার হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনি তিন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তাঁর মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি নিয়ে নেন।

সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। তাঁর ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সেখানে যায়। সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগ খুলে দেখেন। তবে ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এরপর সেলিম সরকারকে যেতে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। এ সময় কয়েকজন তাঁকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও পার্থ দাস উল্টো তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, চার খুনের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস ও তাঁর বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তাঁরা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। তাঁদের আচরণে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে ডিবি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাঁর ব্যাগ খুলে দেখেন। সেখানে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি।

এদিকে, রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এরই মধ্যে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার পরবর্তীতে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে দেওয়া হয়।

২৯ আগস্ট বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আটকে রাখা, তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি নেওয়া এবং স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।