রংপুর, ২৯ আগস্ট ২০২৬: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক সেলিম সরকার হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনি তিন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তাঁর মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি নিয়ে নেন।
সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। তাঁর ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সেখানে যায়। সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগ খুলে দেখেন। তবে ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এরপর সেলিম সরকারকে যেতে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। এ সময় কয়েকজন তাঁকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও পার্থ দাস উল্টো তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, চার খুনের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস ও তাঁর বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তাঁরা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। তাঁদের আচরণে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে ডিবি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তাঁর ব্যাগ খুলে দেখেন। সেখানে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এরই মধ্যে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার পরবর্তীতে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে দেওয়া হয়।
২৯ আগস্ট বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আটকে রাখা, তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি নেওয়া এবং স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।