দীর্ঘ ২১ বছর পর ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যা মামলায় তিন আসামির যাবজ্জীবন, স্বামী বেকসুর খালাস
কুমিল্লায় গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা | ২৩ আগস্ট ২০২৬ : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এবং দেবর মো. নিজাম।
একই মামলার অপর আসামি এবং মরিয়ম বেগমের স্বামী আবদুল মতিনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় মরিয়মের স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে মোট ১২ জন সাক্ষীর দীর্ঘ ২১ বছর পর ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যা মামলায় তিন আসামির যাবজ্জীবন, স্বামী বেকসুর খালাসসাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, একই মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহত মরিয়ম বেগমের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
তারা একই সঙ্গে আদালতের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
এ. কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি


















