চট্টগ্রাম ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

এক বছরে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ২০১ জন; শিখন ঘাটতি ও প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করছে শিক্ষা বিভাগ

পটিয়ায় এসএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়, পাসের হার কমে ৫৫.৩১ শতাংশ

ফারুকুর রহমান বিনজু
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) | ১১ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রামের পটিয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ। ফলে পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৩১ শতাংশে। এতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। পাসের হার ৫৫.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে পটিয়ার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছর পাসের হার ছিল ৭২.৭৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ।

শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪১০ জন শিক্ষার্থী। চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে ২০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২০১ জন।

একই সঙ্গে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পটিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপন কান্তি দে (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের তারতম্য, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার অভাবকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক মনিটরিং জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষার কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তিগত দুর্বলতা থাকলে শেষ সময়ে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিষয়ভিত্তিক সহায়তা, নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষকদের একাডেমিক তদারকি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা জরুরি।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে পটিয়ার এসএসসি ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক বছরে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ২০১ জন; শিখন ঘাটতি ও প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করছে শিক্ষা বিভাগ

পটিয়ায় এসএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয়, পাসের হার কমে ৫৫.৩১ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পটিয়া (চট্টগ্রাম) | ১১ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রামের পটিয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ। ফলে পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৩১ শতাংশে। এতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। পাসের হার ৫৫.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে পটিয়ার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছর পাসের হার ছিল ৭২.৭৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭.৪২ শতাংশ।

শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪১০ জন শিক্ষার্থী। চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে ২০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২০১ জন।

একই সঙ্গে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পটিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপন কান্তি দে (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের তারতম্য, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার অভাবকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক মনিটরিং জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষার কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তিগত দুর্বলতা থাকলে শেষ সময়ে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিষয়ভিত্তিক সহায়তা, নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষকদের একাডেমিক তদারকি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা জরুরি।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে পটিয়ার এসএসসি ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।