সরকারি বরাদ্দে অস্থায়ী কাঠের সেতু হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শতাধিক মানুষ
অমিমাংসিত জায়গায় ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ আহত-৬
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মৌলা এলাকার অস্থায়ী কাঠের সেতু পার হতে গিয়ে আবারো একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জয়নাল আবেদীন (৪০), তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও গ্রামের রইছ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নাল আবেদীন তার ছোট ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ছাতকের বোনের বাড়ি যাচ্ছিলেন। মৌলার কাঠের সেতুটি পার হওয়ার সময় সেতু ভেঙে তারা নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নালকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ভাই আয়নাল মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে মৌলা এলাকার পুরনো পাকা সেতুটি ভেঙে পড়লে সরকারি তহবিল থেকে দেড় লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়। নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সেতুটি শুরু থেকেই ছিল নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ।
বন্দেরগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিন ও স্থানীয় চালক বোরহান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এ সেতুটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এর দায় কে নেবে?”
অস্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজে জড়িত তোফায়েল আহমদ বিপন বলেন, “আমি মাত্র এক লাখ ২৬ হাজার টাকার বরাদ্দ পেয়েছি। ওই বাজেটে যতটা সম্ভব কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।”
নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আব্দুল খালিক পীর জানান, “এ এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোড়াপানি-নরসিংপুর সড়কে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রকল্প ইতোমধ্যে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসী জানান, মৌলা সেতু এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।














