চট্টগ্রাম ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

এক্স-রে মেশিন সচল, কিন্তু ফিল্ম নেই; বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটছেন রোগীরা

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট: মেশিন সচল থাকলেও বন্ধ সেবা, দুর্ভোগে রোগীরা

নুরুল আমিন
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১১ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্মের সংকটের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এক্স-রে সেবা।

ফলে প্রতিদিন চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করাতে আসা অসংখ্য রোগী চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন সম্পূর্ণ সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্ম না থাকায় কোনো রোগীর এক্স-রে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগীদের হাড় ভাঙা, বুক, কোমর, হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও ট্রমা সেন্টারে এসে তারা জানতে পারছেন, ফিল্মের অভাবে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

ট্রমা সেন্টারের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী শহীদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো এক্স-রে ফিল্ম নেই। তাই রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ফিল্ম কবে পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র (ইন্ডেন্ট) পাঠিয়েছি। তবে কবে ফিল্ম আসবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কখনো ১৫ দিন, আবার কখনো এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।”

ফিল্ম শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রমা সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের মজুত সম্পূর্ণ শেষ না হলে নতুন ইন্ডেন্ট গ্রহণ করা হয় না। ফলে আগাম চাহিদাপত্র পাঠানোর সুযোগ সীমিত।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “চিকিৎসক আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ফিল্ম নেই। এখন বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য এটি বড় কষ্টের বিষয়।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা, সময়মতো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা গেলে এমন সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক্স-রে মেশিন সচল, কিন্তু ফিল্ম নেই; বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটছেন রোগীরা

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট: মেশিন সচল থাকলেও বন্ধ সেবা, দুর্ভোগে রোগীরা

আপডেট সময় : ০৩:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১১ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্মের সংকটের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এক্স-রে সেবা।

ফলে প্রতিদিন চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করাতে আসা অসংখ্য রোগী চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন সম্পূর্ণ সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্ম না থাকায় কোনো রোগীর এক্স-রে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগীদের হাড় ভাঙা, বুক, কোমর, হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও ট্রমা সেন্টারে এসে তারা জানতে পারছেন, ফিল্মের অভাবে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

ট্রমা সেন্টারের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী শহীদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো এক্স-রে ফিল্ম নেই। তাই রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ফিল্ম কবে পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র (ইন্ডেন্ট) পাঠিয়েছি। তবে কবে ফিল্ম আসবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কখনো ১৫ দিন, আবার কখনো এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।”

ফিল্ম শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রমা সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের মজুত সম্পূর্ণ শেষ না হলে নতুন ইন্ডেন্ট গ্রহণ করা হয় না। ফলে আগাম চাহিদাপত্র পাঠানোর সুযোগ সীমিত।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “চিকিৎসক আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ফিল্ম নেই। এখন বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য এটি বড় কষ্টের বিষয়।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা, সময়মতো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা গেলে এমন সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।