এক্স-রে মেশিন সচল, কিন্তু ফিল্ম নেই; বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটছেন রোগীরা
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট: মেশিন সচল থাকলেও বন্ধ সেবা, দুর্ভোগে রোগীরা
- আপডেট সময় : ০৩:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১১ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্মের সংকটের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এক্স-রে সেবা।
ফলে প্রতিদিন চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করাতে আসা অসংখ্য রোগী চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন সম্পূর্ণ সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্ম না থাকায় কোনো রোগীর এক্স-রে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগীদের হাড় ভাঙা, বুক, কোমর, হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও ট্রমা সেন্টারে এসে তারা জানতে পারছেন, ফিল্মের অভাবে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ট্রমা সেন্টারের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী শহীদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো এক্স-রে ফিল্ম নেই। তাই রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ফিল্ম কবে পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র (ইন্ডেন্ট) পাঠিয়েছি। তবে কবে ফিল্ম আসবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কখনো ১৫ দিন, আবার কখনো এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।”
ফিল্ম শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রমা সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের মজুত সম্পূর্ণ শেষ না হলে নতুন ইন্ডেন্ট গ্রহণ করা হয় না। ফলে আগাম চাহিদাপত্র পাঠানোর সুযোগ সীমিত।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “চিকিৎসক আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এক্স-রে করতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ফিল্ম নেই। এখন বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য এটি বড় কষ্টের বিষয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ফিল্ম সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা, সময়মতো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা গেলে এমন সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।














