দীর্ঘদিন আত্মগোপনের পর পতেঙ্গা থেকে আটক; হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি
কুমিল্লার আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা | ০৩ জুন ২০২৬ : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা প্রেমের সম্পর্কের কারণে উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় তুহিনকে সন্দেহ করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে নিজ বাড়িতে আটকে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তদন্ত নথি অনুযায়ী, তুহিনের হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও লোহার রড দিয়ে বুকে, পিঠে ও পায়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তুহিন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত চলাকালে ডিবি পুলিশ আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তবে মামলার প্রধান আসামিরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আলম শাহ জানান, বুধবার (৩ জুন) গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন এবং চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।














