বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের প্রাথমিক ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সরকারি সহায়তার দাবি
কালিয়াকৈরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৮টি বসতঘরের কক্ষ ও ৩ দোকান পুড়ে ছাই, কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি বসতঘরের কক্ষ ও ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্পের পিছনের বাজার এলাকার একটি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের সেমিপাকা বসতঘর ও টিনশেড দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা ও ঘন ধোঁয়ায় আতঙ্কিত হয়ে ঘুমন্ত মানুষজন দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই ১৮টি বসতঘরের কক্ষ এবং ৩টি দোকানের আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামাল, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত আরফান আলী মন্টু জানান, তার দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। নগদ অর্থ ও ব্যবসার মালামালসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, তার দোকানে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার পণ্য ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
এক গৃহবধূ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘরের কোনো জিনিসপত্রই বের করতে পারেননি। জামাকাপড়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সংসারের সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ফলে আগুন আশপাশের আরও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করছেন। স্থানীয়রা বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুরনো বৈদ্যুতিক তার দ্রুত পরিবর্তন এবং অগ্নি-নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।














