চট্টগ্রাম ০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

রাইচাঁদ নদীর তীরে শতাব্দীপ্রাচীন মেলায় জমে উঠেছে গ্রামীণ উৎসব— নাগরদোলা, সার্কাস ও পিঠা-পায়েসে মুখর এলাকা

দুর্গাপুরে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলা জমে উঠেছে— হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো জৌলুস

ফরিদ আহমেদ আবির, দুর্গাপুর, রাজশাহী
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার উজালখলসী গ্রামের রাইচাঁদ নদীর তীরে বসেছে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলা। এক সময় এই মেলাই ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রাণের উৎসব— নদীতে নৌকা বাইচ, তীরে ঘোড়দৌড় আর চারপাশে উৎসবের আমেজে ভরপুর থাকত এলাকা। তবে কালের বিবর্তনে সেই জৌলুস আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ঘুরে দেখা যায়, একসময় প্রাণবন্ত রাইচাঁদ নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে কচুরিপানায় ভরে গেছে। নদীর প্রবাহ রোধে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে সুইসগেট। ফলে বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নৌকা বাইচ ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয়রা প্রতিবছরই আয়োজন করে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ঘোড়াদহ মেলার ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। তাঁদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই মেলাটি চলে আসছে। প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে কার্তিকের ২ তারিখ পর্যন্ত চলে এই আয়োজন।

মেলাটি মূলত উজালখলসী গ্রামে হলেও উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দুর্গাপুর উপজেলায়। আশপাশের আলীপুর, দেবীপুর ও শ্যামপুর গ্রামেও বসে ছোট ছোট উপমেলা।

বর্তমানে মেলায় হাজারো মানুষের ভিড় জমে। রাজশাহী, নওগাঁ, ফরিদপুর, বগুড়া, যশোর, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন নানা পণ্য নিয়ে। ফার্নিচার, শীতের পোশাক, মৃৎশিল্প, খেলনা ও গ্রামীণ পণ্য নিয়ে বসে শত শত দোকান।

শিশুদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, সার্কাস ও ডিজিটাল রাইড— যা এখন মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলাকে ঘিরে চারপাশের গ্রামগুলোয় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম এখন এই অঞ্চলের এক বিশেষ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ রমজান আলী বলেন, “আমাদের ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। তখন নদীতে নৌকা বাইচ, তীরে ঘোড়দৌড় হতো। এখন আর সেই উৎসবের দিন নেই।”

মৃৎশিল্পী স্বপন কুমার দাশ বলেন, “আগে মেলা ১০ দিন পর্যন্ত চলত, এখন ২-৩ দিনেই শেষ হয়। তবুও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর আসি।”

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী বলেন, “২০১৮ সাল পর্যন্ত খুব জমজমাটভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এখন সময় কমে গেলেও স্থানীয়দের আগ্রহে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

নদীর নাব্যতা হ্রাস, আধুনিক বিনোদনের বিকল্প ও নতুন মেলার আগ্রাসনে ঘোড়াদহ মেলা তার পুরোনো চেহারা হারালেও, শত বছরের স্মৃতি বয়ে চলা এই আয়োজন এখনো গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছে স্থানীয়দের মনে ও ভালোবাসায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাইচাঁদ নদীর তীরে শতাব্দীপ্রাচীন মেলায় জমে উঠেছে গ্রামীণ উৎসব— নাগরদোলা, সার্কাস ও পিঠা-পায়েসে মুখর এলাকা

দুর্গাপুরে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলা জমে উঠেছে— হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো জৌলুস

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার উজালখলসী গ্রামের রাইচাঁদ নদীর তীরে বসেছে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলা। এক সময় এই মেলাই ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রাণের উৎসব— নদীতে নৌকা বাইচ, তীরে ঘোড়দৌড় আর চারপাশে উৎসবের আমেজে ভরপুর থাকত এলাকা। তবে কালের বিবর্তনে সেই জৌলুস আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ঘুরে দেখা যায়, একসময় প্রাণবন্ত রাইচাঁদ নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে কচুরিপানায় ভরে গেছে। নদীর প্রবাহ রোধে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে সুইসগেট। ফলে বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নৌকা বাইচ ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয়রা প্রতিবছরই আয়োজন করে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ঘোড়াদহ মেলার ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। তাঁদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই মেলাটি চলে আসছে। প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়ে কার্তিকের ২ তারিখ পর্যন্ত চলে এই আয়োজন।

মেলাটি মূলত উজালখলসী গ্রামে হলেও উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দুর্গাপুর উপজেলায়। আশপাশের আলীপুর, দেবীপুর ও শ্যামপুর গ্রামেও বসে ছোট ছোট উপমেলা।

বর্তমানে মেলায় হাজারো মানুষের ভিড় জমে। রাজশাহী, নওগাঁ, ফরিদপুর, বগুড়া, যশোর, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন নানা পণ্য নিয়ে। ফার্নিচার, শীতের পোশাক, মৃৎশিল্প, খেলনা ও গ্রামীণ পণ্য নিয়ে বসে শত শত দোকান।

শিশুদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, সার্কাস ও ডিজিটাল রাইড— যা এখন মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলাকে ঘিরে চারপাশের গ্রামগুলোয় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম এখন এই অঞ্চলের এক বিশেষ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ রমজান আলী বলেন, “আমাদের ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। তখন নদীতে নৌকা বাইচ, তীরে ঘোড়দৌড় হতো। এখন আর সেই উৎসবের দিন নেই।”

মৃৎশিল্পী স্বপন কুমার দাশ বলেন, “আগে মেলা ১০ দিন পর্যন্ত চলত, এখন ২-৩ দিনেই শেষ হয়। তবুও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর আসি।”

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী বলেন, “২০১৮ সাল পর্যন্ত খুব জমজমাটভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এখন সময় কমে গেলেও স্থানীয়দের আগ্রহে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

নদীর নাব্যতা হ্রাস, আধুনিক বিনোদনের বিকল্প ও নতুন মেলার আগ্রাসনে ঘোড়াদহ মেলা তার পুরোনো চেহারা হারালেও, শত বছরের স্মৃতি বয়ে চলা এই আয়োজন এখনো গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছে স্থানীয়দের মনে ও ভালোবাসায়।