লালমোহনে প্রশাসনিক নথি জোরপূর্বক নেওয়ার ঘটনায় তদন্তের দাবি
স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে পিআইও অফিস থেকে টিআর-কাবিখা বরাদ্দ তালিকা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহন উপজেলায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে টিআর (Test Relief) ও কাবিখা কর্মসূচির বরাদ্দ তালিকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে পিআইও কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কার্যালয়ে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি এভাবে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার জানান, পবিত্র মাহে রমজানের শেষদিকে বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের নাম উল্লেখ করে কার্যালয়ে আসেন। তিনি চলমান টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ তালিকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
তিনি আরও জানান, তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্পিকারের এপিএস পরিচয়ে একটি ফোন কলের মাধ্যমে তাকে তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সেই নির্দেশের ভিত্তিতে তালিকা হস্তান্তর করা হয়।
তবে সরকারি বরাদ্দের তালিকা অন্য কারো কাছে দেওয়া প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তালিকা চাইতেই পারি।” তবে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, “অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাতে পারব।”
উল্লেখ্য, টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ ও তালিকা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এ ধরনের নথি সংগ্রহের ঘটনা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তোলে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।














