চট্টগ্রাম ১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা সেলাইয়ে বাড়ছে অর্ডার, তবে কিছু দর্জির অভিযোগ সিন্ডিকেটে কমছে কাজ

ঈদকে ঘিরে কুমিল্লার দর্জি পাড়ায় ব্যস্ততা, বাড়ছে পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার

এ.কে পলাশ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দর্জি দোকানগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজার সেলাইয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) কুমিল্লা নগরীর খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দর্জি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিন একটি দোকানে গড়ে থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার ৫০ থেকে ৬০টি এবং পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজারের ৪০ থেকে ৫০টি অর্ডার পাচ্ছেন দর্জিরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে অর্ডারের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কিছু দোকানে এখনও আশানুরূপ অর্ডার না পাওয়ায় অনেক কারিগর কিছুটা হতাশার মধ্যে সময় পার করছেন। অনেকেই ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

দর্জিরা জানান, ঈদকে ঘিরে অন্যান্য পোশাকের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় সব ধরনের পোশাক সেলাইয়ের মূল্য ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে বর্তমানে পাঞ্জাবি সেলাই হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং প্যান্ট ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

এছাড়া ব্লেজার সেট ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় সেলাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ডাবল থ্রি-পিস ৮০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং লেহেঙ্গা সেলাই করা হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কোনো কোনো দোকানে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও রাখা হচ্ছে।

খন্দকার হক শপিংমলের নুসরাত লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জহির হোসেন বলেন, “আমরা অন্যদের জন্য পোশাক তৈরি করি, কিন্তু নিজেরাই নতুন পোশাক কিনতে পারি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষের পোশাক সেলাইয়ের আগ্রহও কিছুটা কমেছে। এছাড়া কাপড় দোকানের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক অর্ডার হারাচ্ছি আমরা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাপড়ের দোকানের কিছু সেলসম্যান নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ দর্জি দোকানে ক্রেতাদের পাঠিয়ে দেন। ফলে যারা চুক্তিবদ্ধ নন, তারা প্রত্যাশিত অর্ডার পাচ্ছেন না।
কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে থ্রি-পিস সেলাই করতে আসা ক্রেতা মোশের্দা আক্তার বলেন, “আমরা সেলাইয়ের দাম নয়, মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিই। ভালো সেলাই হলে ঈদ উপলক্ষে ১০০-২০০ টাকা বেশি দিলেও সমস্যা নেই।”

গণি ভূইয়া ম্যানশন গলির সামিনা লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নয়ন জানান, তাদের দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি অর্ডার আসে। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা বেশি। ঈদের কেনাকাটা পুরোপুরি শুরু হলে অর্ডার আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলসহ আশপাশের মার্কেটগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।

অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি দর্জি পাড়াতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ঈদের ব্যস্ততা। রঙিন কাপড় কাটাকাটি শেষে মেশিনে সেলাই হয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক হিসেবে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাবে—এমন আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা সেলাইয়ে বাড়ছে অর্ডার, তবে কিছু দর্জির অভিযোগ সিন্ডিকেটে কমছে কাজ

ঈদকে ঘিরে কুমিল্লার দর্জি পাড়ায় ব্যস্ততা, বাড়ছে পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দর্জি দোকানগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজার সেলাইয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) কুমিল্লা নগরীর খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দর্জি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিন একটি দোকানে গড়ে থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার ৫০ থেকে ৬০টি এবং পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজারের ৪০ থেকে ৫০টি অর্ডার পাচ্ছেন দর্জিরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে অর্ডারের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কিছু দোকানে এখনও আশানুরূপ অর্ডার না পাওয়ায় অনেক কারিগর কিছুটা হতাশার মধ্যে সময় পার করছেন। অনেকেই ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

দর্জিরা জানান, ঈদকে ঘিরে অন্যান্য পোশাকের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় সব ধরনের পোশাক সেলাইয়ের মূল্য ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে বর্তমানে পাঞ্জাবি সেলাই হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং প্যান্ট ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

এছাড়া ব্লেজার সেট ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় সেলাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ডাবল থ্রি-পিস ৮০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং লেহেঙ্গা সেলাই করা হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কোনো কোনো দোকানে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও রাখা হচ্ছে।

খন্দকার হক শপিংমলের নুসরাত লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জহির হোসেন বলেন, “আমরা অন্যদের জন্য পোশাক তৈরি করি, কিন্তু নিজেরাই নতুন পোশাক কিনতে পারি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষের পোশাক সেলাইয়ের আগ্রহও কিছুটা কমেছে। এছাড়া কাপড় দোকানের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক অর্ডার হারাচ্ছি আমরা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাপড়ের দোকানের কিছু সেলসম্যান নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ দর্জি দোকানে ক্রেতাদের পাঠিয়ে দেন। ফলে যারা চুক্তিবদ্ধ নন, তারা প্রত্যাশিত অর্ডার পাচ্ছেন না।
কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে থ্রি-পিস সেলাই করতে আসা ক্রেতা মোশের্দা আক্তার বলেন, “আমরা সেলাইয়ের দাম নয়, মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিই। ভালো সেলাই হলে ঈদ উপলক্ষে ১০০-২০০ টাকা বেশি দিলেও সমস্যা নেই।”

গণি ভূইয়া ম্যানশন গলির সামিনা লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নয়ন জানান, তাদের দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি অর্ডার আসে। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা বেশি। ঈদের কেনাকাটা পুরোপুরি শুরু হলে অর্ডার আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলসহ আশপাশের মার্কেটগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।

অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি দর্জি পাড়াতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ঈদের ব্যস্ততা। রঙিন কাপড় কাটাকাটি শেষে মেশিনে সেলাই হয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক হিসেবে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাবে—এমন আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।