এ.কে পলাশ | কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দর্জি দোকানগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজার সেলাইয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) কুমিল্লা নগরীর খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দর্জি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিন একটি দোকানে গড়ে থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার ৫০ থেকে ৬০টি এবং পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজারের ৪০ থেকে ৫০টি অর্ডার পাচ্ছেন দর্জিরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে অর্ডারের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে কিছু দোকানে এখনও আশানুরূপ অর্ডার না পাওয়ায় অনেক কারিগর কিছুটা হতাশার মধ্যে সময় পার করছেন। অনেকেই ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
দর্জিরা জানান, ঈদকে ঘিরে অন্যান্য পোশাকের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় সব ধরনের পোশাক সেলাইয়ের মূল্য ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে বর্তমানে পাঞ্জাবি সেলাই হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং প্যান্ট ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
এছাড়া ব্লেজার সেট ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় সেলাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ডাবল থ্রি-পিস ৮০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং লেহেঙ্গা সেলাই করা হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কোনো কোনো দোকানে থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও রাখা হচ্ছে।
খন্দকার হক শপিংমলের নুসরাত লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জহির হোসেন বলেন, “আমরা অন্যদের জন্য পোশাক তৈরি করি, কিন্তু নিজেরাই নতুন পোশাক কিনতে পারি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষের পোশাক সেলাইয়ের আগ্রহও কিছুটা কমেছে। এছাড়া কাপড় দোকানের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক অর্ডার হারাচ্ছি আমরা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাপড়ের দোকানের কিছু সেলসম্যান নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ দর্জি দোকানে ক্রেতাদের পাঠিয়ে দেন। ফলে যারা চুক্তিবদ্ধ নন, তারা প্রত্যাশিত অর্ডার পাচ্ছেন না।
কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে থ্রি-পিস সেলাই করতে আসা ক্রেতা মোশের্দা আক্তার বলেন, “আমরা সেলাইয়ের দাম নয়, মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিই। ভালো সেলাই হলে ঈদ উপলক্ষে ১০০-২০০ টাকা বেশি দিলেও সমস্যা নেই।”
গণি ভূইয়া ম্যানশন গলির সামিনা লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নয়ন জানান, তাদের দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি অর্ডার আসে। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা বেশি। ঈদের কেনাকাটা পুরোপুরি শুরু হলে অর্ডার আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলসহ আশপাশের মার্কেটগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।
অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি দর্জি পাড়াতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ঈদের ব্যস্ততা। রঙিন কাপড় কাটাকাটি শেষে মেশিনে সেলাই হয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক হিসেবে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাবে—এমন আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা।