চট্টগ্রাম ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

বাড়তি ফি ও বেতন আদায়ে দানের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়ছে জনমনে সংশয়

দাননির্ভর কওমী মাদ্রাসায় বেতন বাড়তি চাপ: আলেম শিক্ষায় দরিদ্রদের বঞ্চনার শঙ্কা

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে দান, খয়রাত ও জাকাতের টাকায় পরিচালিত কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বেতন ও ফি আরোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের আলেম-আলেমা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এমন অভিযোগ তুলছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, বোর্ডিং খরচ, পরীক্ষার ফি, উন্নয়ন ফি—নানাবিধ খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য সন্তানদের কওমী মাদ্রাসায় পড়ানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক অভিভাবক বলেন, “মানুষ দান করে গরীব ছাত্রদের জন্য, অথচ মাসে মাসে বেতন না দিতে পারলে ছাত্রদের মানসিক চাপে রাখা হয়। এতে গরীবরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আরেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দানের টাকায় পরিচালিত মাদ্রাসায় গরীব ছাত্র পড়তেই না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ দান করবে কেন?”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কওমী মাদ্রাসা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজের অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান। সেখানে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ন্ত্রিত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা দানের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, দান ও জাকাতভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক নীতিমালা স্পষ্ট করা জরুরি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা তহবিল গঠন, বেতন মওকুফের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের খাত প্রকাশ্যে আনা না হলে ধর্মীয় শিক্ষা ধীরে ধীরে ধনী-নির্ভর হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশ জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষক বেতন ও অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তবে তারাও স্বীকার করেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে ধর্মপ্রাণ দাতাদের মাঝেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যে মাদ্রাসা গরীবদের জন্য প্রতিষ্ঠিত, সেখানে যদি বেতনের কারণে গরীব শিক্ষার্থীরাই আলেম হতে না পারে, তবে দান ও জাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাড়তি ফি ও বেতন আদায়ে দানের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়ছে জনমনে সংশয়

দাননির্ভর কওমী মাদ্রাসায় বেতন বাড়তি চাপ: আলেম শিক্ষায় দরিদ্রদের বঞ্চনার শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:১৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে দান, খয়রাত ও জাকাতের টাকায় পরিচালিত কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বেতন ও ফি আরোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের আলেম-আলেমা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এমন অভিযোগ তুলছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, বোর্ডিং খরচ, পরীক্ষার ফি, উন্নয়ন ফি—নানাবিধ খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য সন্তানদের কওমী মাদ্রাসায় পড়ানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক অভিভাবক বলেন, “মানুষ দান করে গরীব ছাত্রদের জন্য, অথচ মাসে মাসে বেতন না দিতে পারলে ছাত্রদের মানসিক চাপে রাখা হয়। এতে গরীবরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আরেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দানের টাকায় পরিচালিত মাদ্রাসায় গরীব ছাত্র পড়তেই না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ দান করবে কেন?”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কওমী মাদ্রাসা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজের অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান। সেখানে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ন্ত্রিত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা দানের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, দান ও জাকাতভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক নীতিমালা স্পষ্ট করা জরুরি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা তহবিল গঠন, বেতন মওকুফের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের খাত প্রকাশ্যে আনা না হলে ধর্মীয় শিক্ষা ধীরে ধীরে ধনী-নির্ভর হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশ জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষক বেতন ও অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তবে তারাও স্বীকার করেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে ধর্মপ্রাণ দাতাদের মাঝেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যে মাদ্রাসা গরীবদের জন্য প্রতিষ্ঠিত, সেখানে যদি বেতনের কারণে গরীব শিক্ষার্থীরাই আলেম হতে না পারে, তবে দান ও জাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে