বাড়তি ফি ও বেতন আদায়ে দানের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়ছে জনমনে সংশয়
দাননির্ভর কওমী মাদ্রাসায় বেতন বাড়তি চাপ: আলেম শিক্ষায় দরিদ্রদের বঞ্চনার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে দান, খয়রাত ও জাকাতের টাকায় পরিচালিত কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বেতন ও ফি আরোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের আলেম-আলেমা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এমন অভিযোগ তুলছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, বোর্ডিং খরচ, পরীক্ষার ফি, উন্নয়ন ফি—নানাবিধ খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য সন্তানদের কওমী মাদ্রাসায় পড়ানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক অভিভাবক বলেন, “মানুষ দান করে গরীব ছাত্রদের জন্য, অথচ মাসে মাসে বেতন না দিতে পারলে ছাত্রদের মানসিক চাপে রাখা হয়। এতে গরীবরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আরেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দানের টাকায় পরিচালিত মাদ্রাসায় গরীব ছাত্র পড়তেই না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ দান করবে কেন?”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কওমী মাদ্রাসা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজের অনুদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান। সেখানে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ন্ত্রিত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা দানের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, দান ও জাকাতভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক নীতিমালা স্পষ্ট করা জরুরি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা তহবিল গঠন, বেতন মওকুফের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের খাত প্রকাশ্যে আনা না হলে ধর্মীয় শিক্ষা ধীরে ধীরে ধনী-নির্ভর হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশ জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষক বেতন ও অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তবে তারাও স্বীকার করেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে ধর্মপ্রাণ দাতাদের মাঝেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যে মাদ্রাসা গরীবদের জন্য প্রতিষ্ঠিত, সেখানে যদি বেতনের কারণে গরীব শিক্ষার্থীরাই আলেম হতে না পারে, তবে দান ও জাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে














