চট্টগ্রাম ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

টাকা না দিলে আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

গোদাগাড়ী থানার এএসআই ফজলুরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলার তদন্তে টাকা ছাড়া এক পা-ও নড়েন না তিনি—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের ভয় দেখান এএসআই ফজলু। এমনকি কেউ টাকা দিতে না পারলে ৩০ টাকার মতো সামান্য অঙ্কও ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সেবা নয়, অর্থই যেন তাঁর কাছে মুখ্য—এমন মন্তব্য করেন তারা।

গোদাগাড়ী ১ নম্বর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শেওলা গ্রামের বাদশা থানায় অভিযোগ করেন শফিকুলের বিরুদ্ধে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মীমাংসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই ফজলু গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে শফিকুলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

একই ইউনিয়নের রাতাহারী এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল খালেকের কাছ থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০ হাজার টাকার পাওনা আদায়ে ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়, যার মধ্যে ২ হাজার টাকা নেন এএসআই ফজলু এবং বাদি পান ১৩ হাজার টাকা।

চলতি বছরের ১৫ জুন মারামারির ঘটনায় জিডিকে কেন্দ্র করে আজাদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রাতাহারী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক জানান, পারিবারিক কলহের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে তদন্তে এসে এএসআই ফজলু ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

রাতাহারী দিঘিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম বাড়িতে বসে তালের রস পান করার সময় হঠাৎ এএসআই ফজলু তাকে আটক করেন এবং পরে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করা হয় বলে অভিযোগ।

উপজেলার মিরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় অভিযোগের পর এএসআই ফজলু প্রথম কিস্তিতে ৫ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা নেন।

জলাহার গ্রামের বাসিন্দা শারিফ উদ্দিন বলেন, এএসআই ফজলু তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগ অপবাদ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন এবং বারবার বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমান।

একই এলাকার জুলাই যোদ্ধা মুরসালিন ইসলাম বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় লজ্জাজনক। আমি বারবার তাকে সতর্ক করেছি। তারপরও তিনি ঘুষ গ্রহণ করছেন। অবিলম্বে তার প্রত্যাহার দাবি করছি।”

এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে মাসিক মাসোহারা তুলতেন এবং রাজনৈতিক দল দমনের নামে অর্থ আদায় করতেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের ট্যাগ ব্যবহার করে বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হাসান বাশিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টাকা না দিলে আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

গোদাগাড়ী থানার এএসআই ফজলুরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, আ’লীগ ট্যাগে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলার তদন্তে টাকা ছাড়া এক পা-ও নড়েন না তিনি—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের ভয় দেখান এএসআই ফজলু। এমনকি কেউ টাকা দিতে না পারলে ৩০ টাকার মতো সামান্য অঙ্কও ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সেবা নয়, অর্থই যেন তাঁর কাছে মুখ্য—এমন মন্তব্য করেন তারা।

গোদাগাড়ী ১ নম্বর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শেওলা গ্রামের বাদশা থানায় অভিযোগ করেন শফিকুলের বিরুদ্ধে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মীমাংসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই ফজলু গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে শফিকুলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

একই ইউনিয়নের রাতাহারী এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল খালেকের কাছ থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০ হাজার টাকার পাওনা আদায়ে ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়, যার মধ্যে ২ হাজার টাকা নেন এএসআই ফজলু এবং বাদি পান ১৩ হাজার টাকা।

চলতি বছরের ১৫ জুন মারামারির ঘটনায় জিডিকে কেন্দ্র করে আজাদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রাতাহারী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক জানান, পারিবারিক কলহের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে তদন্তে এসে এএসআই ফজলু ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

রাতাহারী দিঘিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম বাড়িতে বসে তালের রস পান করার সময় হঠাৎ এএসআই ফজলু তাকে আটক করেন এবং পরে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করা হয় বলে অভিযোগ।

উপজেলার মিরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় অভিযোগের পর এএসআই ফজলু প্রথম কিস্তিতে ৫ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা নেন।

জলাহার গ্রামের বাসিন্দা শারিফ উদ্দিন বলেন, এএসআই ফজলু তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগ অপবাদ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন এবং বারবার বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমান।

একই এলাকার জুলাই যোদ্ধা মুরসালিন ইসলাম বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় লজ্জাজনক। আমি বারবার তাকে সতর্ক করেছি। তারপরও তিনি ঘুষ গ্রহণ করছেন। অবিলম্বে তার প্রত্যাহার দাবি করছি।”

এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে মাসিক মাসোহারা তুলতেন এবং রাজনৈতিক দল দমনের নামে অর্থ আদায় করতেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের ট্যাগ ব্যবহার করে বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হাসান বাশিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”