যাত্রাশিল্পের ঐতিহ্য রক্ষা, শিল্পীদের পেশাগত সংকট নিরসন ও নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ
বটিয়াঘাটায় যাত্রা শিল্পীদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভা, ঐতিহ্য রক্ষায় পৃষ্ঠপোষকতার দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বটিয়াঘাটা (খুলনা) | ২৮ আগস্ট ২০২৬: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সাধারণ যাত্রা শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পের সংকট, শিল্পীদের পেশাগত সমস্যা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এজাজুর রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাত্রা শিল্পী পরিষদ, খুলনা জেলার সভাপতি বাবু সৌমেন রায় ও সাধারণ সম্পাদক শিশির ঢালী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জলিল হোসেন বাবু, বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ মহলদার, সদর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শামসুল হক, যুবনেতা শাহেদুজ্জামান গোলদার, ছাত্রনেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ইনুছ মোল্লা এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রণব বৈরাগী।
মতবিনিময় সভায় যাত্রা শিল্পী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রদীপ কীর্তনীয়া, প্রাণকৃষ্ণ মল্লিক, শচীন মণ্ডল, নৃপেন বিশ্বাস, মিল্টন চক্রবর্তী, পলাশ মণ্ডল, পুলক, মলয়, শেফালী দাস, রবিতা, রূপালী, বিজলী, কবিতা, রীনা, সুচারিতা মণ্ডল, বনানী দাস ও অদিতিসহ অন্যান্য শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, যাত্রাপালা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় যাত্রাপালা ছিল মানুষের বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের প্রসার, পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং নানা সামাজিক ও পেশাগত সংকটের কারণে বর্তমানে যাত্রাশিল্প অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, যাত্রাশিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাদের পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শিল্পীদের নিয়মিত কাজের সুযোগ সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে যাত্রাশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তাদের মতে, যাত্রাশিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বাংলার লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। যথাযথ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যেতে বসা এ শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত যাত্রাশিল্পীরা তাদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যাত্রাশিল্পীদের পাশে থাকার এবং বটিয়াঘাটায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
শিল্পী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।














