দুই দিনে শরীয়তপুর, কুমিল্লা ও উত্তরায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ; জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি
শরীয়তপুরের পর কুমিল্লা ও উত্তরায় ৬ সাংবাদিকের ওপর হামলা, বিএমএসএফের প্রতিবাদ
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা | ২৬ আগস্ট ২০২৬ঃ দেশে গত দুই দিনে পৃথক ঘটনায় ৯ সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার পর এবার কুমিল্লা ও রাজধানীর উত্তরায় আরও ছয় সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকার শ্রীমন্তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য খোকন চৌধুরী, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক মারুফ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তারা আহত হন। হামলার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। তারা হলেন ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিন-এর প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে বুধবার রাজধানীর উত্তরায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গ্রীন টিভির তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আজমপুর বটতলা এলাকায় অবৈধ নির্মাণসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কাজী আরিফ হাসান ও আজমীর হোসেন অমিতসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকদের মারধর এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। তবে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা গ্রহণে টালবাহানার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পৃথক এসব হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।
বিএমএসএফের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন না থাকায় সাংবাদিকরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দ্বারা নিয়মিত হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন সংসদে পাস করার উদ্যোগ নিতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত মামলা গ্রহণ, তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা প্রয়োজন।














