তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি সম্পত্তির পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপরাধীদের আড্ডাস্থল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ; দ্রুত ব্যবস্থা চেয়েছেন স্থানীয়রা
চুয়াডাঙ্গা বিএডিসি ফার্মের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে মাদকের ‘স্বর্গরাজ্য’, চরম নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা | ২৬ আগস্ট ২০২৬: চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ফার্মের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারগুলো মাদকসেবী ও অপরাধীদের কথিত নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও যথাযথ তদারকি না থাকায় সরকারি সম্পত্তির এসব ভবনকে ঘিরে মাদক সেবন, কেনাবেচা, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএডিসি ফার্মের অভ্যন্তরে ও সীমানাঘেঁষা বেশ কয়েকটি পুরোনো আবাসিক কোয়ার্টার বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনগুলোর দরজা-জানালা, চৌকাঠ ও লোহার গ্রিলের অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙাচোরা ভবনগুলো ঝোপঝাড় ও লতাপাতায় ঢেকে থাকায় সেখানে সহজেই আড়াল তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব পরিত্যক্ত কক্ষ শুধু স্থানীয় মাদকসেবীদেরই নয়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদকসেবী ও অপরাধীদেরও আনাগোনার জায়গায় পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেও সেখানে মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলোতে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করা হয়। একই সঙ্গে জুয়া ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরও আসর বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিএডিসি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিস্তার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অবশ্য নিয়মিত চলছে। চলতি বছরের মে মাসে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে বিজিবি। ওই অভিযানে ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দের তথ্য জানানো হয়।
এদিকে বিএডিসি ফার্ম এলাকার পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে ঘিরে নতুন করে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি গড়ে ওঠার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পাড়া-মহল্লার উঠতি বয়সী কিশোর ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের একটি অংশ এসব স্থানে এসে অপরাধী চক্রের সংস্পর্শে পড়ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও বাড়ছে। বিএডিসি এলাকার সরকারি গাছ কেটে নেওয়া, বৈদ্যুতিক তার চুরি এবং আশপাশের বাসাবাড়িতে ছোটখাটো চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা দাবি করেছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বিএডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা বসে, তাহলে এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, পরিত্যক্ত ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করা হোক। যদি সংস্কারের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সেগুলো অপসারণ করে জায়গাটি নিরাপদ করা হোক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু মাঝে মধ্যে পুলিশি অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ফার্ম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
তাদের মতে, পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ বা সংস্কার, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, সীমানাপ্রাচীর মজবুত করা, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং নিরাপত্তাকর্মী বাড়ানো হলে অপরাধীদের আনাগোনা কমানো সম্ভব।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সরকারি তথ্যভান্ডারেও জেলা বিএডিসি (বীজ) অফিসের অস্তিত্ব ও কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রেখে সেখানে অপরাধের সুযোগ তৈরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিএডিসি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।
তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত মাদক সেবন, বিক্রি, জুয়া ও চুরির অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন।














