আক্কেলপুরের কৃষ্ণকোলায় চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে ওয়ার্কশপ ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার।
জয়পুরহাটে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা-লুটপাট, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি | ২৪ আগস্ট ২০২৬ : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে আক্কেলপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা একটি ওয়ার্কশপ ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় নগদ ৭ লাখ টাকা লুট এবং প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার মালামাল নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের একজনের দাবি, দোকানের মালামাল, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের পরিমাণ আরও বেশি।
এ ঘটনায় রোববার আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কাসেম আলী। তাঁর ছেলে আল আমিন ও আজাদ দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণকোলা গ্রামে ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড মেশিনারিজ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
ইজিবাইক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। পরে সেটি উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা ধাওয়া দেন। পরে তিনজনকে আটক করা হলেও একজন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের একটি মসজিদের পাশে খোলা স্থানে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আটক তিনজনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে ওই তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তাঁরা পরে জামিনে মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
‘চাঁদা না দেওয়ায় হামলা’—ভুক্তভোগীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল আমিনের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু ও তাঁর সহযোগীরা পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
আরেক ব্যবসায়ী মো. আজাদ দাবি করেন, চোরাই ইজিবাইকের মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
আজাদ বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর রাজু ও তাঁর সহযোগীরা হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল কেনাবেচা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














