চট্টগ্রাম ০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

গোপালগঞ্জে জন্ম, দৌলতপুরে বেড়ে ওঠা; শ্রেণিবৈষম্য, অনাহার ও জীবনের কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে কবি, গীতিকার ও অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান মারজুক রাসেল।

মারজুক রাসেলের জীবন: যে গল্পে আছে অনাহার, সংগ্রাম আর সৃষ্টির নেশা

লুৎফর সিকদার,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের বিনোদন ও সাহিত্যাঙ্গনে মারজুক রাসেল এক বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল নাম। কবি, গীতিকার, অভিনেতা ও লেখক—বিভিন্ন পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এই শিল্পীর শৈশব ছিল না মোটেও সহজ। গোপালগঞ্জে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠার বড় অংশ কেটেছে খুলনার দৌলতপুরে। পাটকলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী বাবার সন্তান হিসেবে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থকষ্ট, অপূর্ণ ভালোবাসা, অনিশ্চয়তা ও জীবিকার কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে তাঁর শিল্পীসত্তা।

মারজুক রাসেলের জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৭৩। জন্মস্থান গোপালগঞ্জ হলেও বাবার চাকরির কারণে শৈশবের বড় সময় কাটে খুলনার দৌলতপুর এলাকায়। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় সরকারি কৃষ্ণমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে বাবার ইচ্ছায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে তাঁকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি এবং খুলনার ‘জনবার্তা’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়—এ তথ্য একাধিক জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে আঁকা শিল্পী হাশেম খানের ছবি মারজুক রাসেলের কিশোর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে তাঁর জীবনকথায় উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জসীমউদ্দীনের লেখা তাঁকে আকৃষ্ট করত। পরে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, ফররুখ আহমেদ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যও তাঁর চিন্তাজগৎকে প্রভাবিত করে।

শুধু সাহিত্য নয়, সমাজের বাস্তবতাও খুব অল্প বয়সে তাঁকে নাড়া দেয়। শৈশবেই শ্রেণিবৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁর ভেতরে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি করেছিল। ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও বাবার চাকরির শ্রেণিগত অবস্থানের কারণে কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। পরবর্তী সময়ে এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর লেখার ভেতরের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর তাঁর অনেক সহপাঠী সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় এগিয়ে গেলেও তিনি ভিন্ন এক শিক্ষাপথে চলে যান। এই পরিবর্তন তাঁর মনে হতাশা ও হীনম্মন্যতা তৈরি করেছিল বলে তাঁর জীবনকথা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সেই আবেগ ও কষ্ট কবিতার ভাষা পেতে শুরু করে। ছন্দের আনুষ্ঠানিক জ্ঞান তখনো ছিল না, কিন্তু শব্দ ও অনুভূতির প্রতি তাঁর স্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল প্রবল। সেই সময়ের লেখা কবিতা ‘জনবার্তা’য় প্রকাশিত হওয়া তাঁর সাহিত্যযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

মারজুক রাসেলের কৈশোর ও তারুণ্যের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় অপূর্ণ ভালোবাসা। জীবনকথাভিত্তিক একটি পুরোনো প্রতিবেদনে তাঁর একতরফা প্রেম এবং সেই সম্পর্ককে ঘিরে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্যের অভিঘাতের কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত এই অংশের সব বিবরণ স্বাধীন প্রাথমিক সূত্রে যাচাই করা যায়নি; ফলে এটি তাঁর প্রকাশিত জীবনীমূলক বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, শৈশব-কৈশোরের অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য ও নানা হতাশা তাঁর শিল্পীসত্তাকে দুর্বল না করে বরং গভীর করেছে। পরবর্তী জীবনে তিনি নিজেও এসব অভিজ্ঞতাকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন—এমন বর্ণনা তাঁর জীবনকথা নিয়ে পাওয়া যায়।

কৈশোর পেরিয়ে মারজুক রাসেল ক্রমেই বই ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন। খুলনার বয়রা গণগ্রন্থাগার ও উমেশচন্দ্র গণগ্রন্থাগারে তাঁর যাতায়াত ছিল বলে জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ আছে। একই সময়ে উদীচী ও কলাকেন্দ্রের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন।

সমাজের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং বামপন্থী রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিতিও তাঁর চিন্তাকে প্রভাবিত করে। বই, গান, কবিতা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তৈরি হতে থাকে তাঁর নিজস্ব শিল্পীসত্তা।

মারজুক রাসেলের গীতিকার হয়ে ওঠার পেছনেও রয়েছে একটি সাধারণ অথচ তাৎপর্যপূর্ণ শৈশবস্মৃতি। বাবার পুরোনো ‘নেভিকো’ রেডিওতে গান শুনতে শুনতে একদিন ঘোষকের মুখে শুনেছিলেন—‘গানটি লিখেছেন…’। তখন বাবাকে তাঁর প্রশ্ন ছিল, গান কীভাবে লেখা হয়? বাবার উত্তর ছিল, এ জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়।

সেই কথাই তরুণ মারজুকের মনে গান লেখার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে কবিতা থেকে গানে তাঁর যাত্রা যে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়েছিল, তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারই তার প্রমাণ।

১৯৯৩ সালে খুলনা ছেড়ে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেন মারজুক রাসেল। এর আগে আশির দশকের শেষ দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে প্রথম ঢাকায় এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কবি শামসুর রাহমান, রফিক আজাদ, লুৎফর রহমান রিটনসহ সাহিত্যাঙ্গনের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকায় এসে তাঁর জীবন সহজ হয়নি। বরং শুরু হয় টিকে থাকার কঠিন লড়াই। জীবনীমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সিনেমার টিকিট বিক্রি করেছেন, ফুটপাতে হকারি করেছেন এবং এমনকি জীবিকার প্রয়োজনে বাসের যাত্রীদের কাছেও কাজের জন্য অনুরোধ করেছেন। একসময় তোপখানা রোডের একটি গাড়ির গ্যারেজেও থাকার কথা তাঁর জীবনকথায় উঠে এসেছে।

ঢাকায় আসার পর মারজুক রাসেলের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা কবি শামসুর রাহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ। জীবনকথার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় তিনি কবির বাড়িতে গিয়ে দরজার সামনে নিজেকে ‘অনাহারী’ হিসেবে পরিচয় দেন। শব্দটি শামসুর রাহমানের একটি বইয়ের নামের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। তরুণ মারজুকের বাস্তব অবস্থা বুঝে কবি তাঁকে ভেতরে নিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন—এমন স্মৃতিচারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

এই ঘটনাটি মারজুকের জীবনে শুধু একটি মানবিক স্মৃতি নয়; সংগ্রামী একজন তরুণ শিল্পীর জন্য এটি ছিল মানসিক শক্তি পাওয়ারও একটি মুহূর্ত।

ঢাকার কঠিন জীবনযুদ্ধের মধ্যে একসময় লেখালেখি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন মারজুক। কিন্তু শিল্পীসত্তাকে দীর্ঘদিন চেপে রাখা সম্ভব হয়নি। এক ভোরে একটি ভাবনা তাঁকে আবার লেখার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। সেখান থেকেই তাঁর নতুন সৃষ্টিশীল অধ্যায়ের সূচনা—এমন বর্ণনা তাঁর জীবনকথায় পাওয়া যায়।

পরবর্তী সময়ে একটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি আজিজ মার্কেটকেন্দ্রিক সাহিত্যিক পরিবেশে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। কবিতা ও গল্পের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত গান লিখতে শুরু করেন।

মারজুক রাসেলের গীতিকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে সাংবাদিক ও গীতিকার ফারুক মামুন এবং পরে সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। সংবাদপত্রে কাজ ও ফ্রিল্যান্স লেখালেখির সূত্রে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। একসময় বেশ কিছু গান নিয়ে সঞ্জীব চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি মারজুককে জেমসের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন।

পরামর্শ মেনে মারজুক রাসেল জেমসের স্টুডিওতে যান। তাঁর গান শুনে জেমস উৎসাহ দেন—এই সাক্ষাৎ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় গানের জগতে মারজুক রাসেলের গীতিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

২০০৪ সালের ‘Bachelor’ চলচ্চিত্র নিয়ে The Daily Star-এর সাক্ষাৎকারেও মারজুক জানান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই কাজের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ‘Bachelor’-এর সঙ্গে অভিনয়ের পাশাপাশি গান লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

মারজুক রাসেলের পরিচিতি শুধু কবিতার বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। জনপ্রিয় সংগীতেও তাঁর লেখা জায়গা করে নেয়। জেমস ও অন্যান্য শিল্পীর জন্য গান লিখে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পত্র দিও’, ‘শরাবে শরাব’, ‘পাগলা ঘোড়া’সহ তাঁর লেখা বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

গানের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল লেখাতেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতার এই বহুমুখিতা তাঁকে একই সঙ্গে সাহিত্য, সংগীত, বিজ্ঞাপন ও অভিনয়ের জগতে সক্রিয় করে তোলে।

মারজুক রাসেলের অভিনয়জীবনের শুরু টেলিভিশনভিত্তিক কাজ দিয়ে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালিত ‘আয়না মহল’ তাঁর প্রথমদিকের পর্দার কাজগুলোর একটি। পরে ‘Bachelor’ চলচ্চিত্রে নিজের নামেই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। The Daily Star-এর ২০০৪ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘Bachelor’-এর আগে ‘আয়না মহল’ ও ‘চারুইভাতি’-তে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছিল এবং ফারুকীর সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

এরপর ‘Made in Bangladesh’, ‘Shapludu’, ‘Ratrir Jatri’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ‘Bachelor Point’-এর ‘পাশা’ চরিত্র তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।

মারজুক রাসেলের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতার বই ‘শান্টিং ছাড়া সংযোগ নিষিদ্ধ’, ‘চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো’, ‘বাঈজি বাড়ি রোড’ এবং ‘ছোট্ট কোথায় টেনিস বল’। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশিত হয় ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’ এবং ‘হাওয়া দেখি, বাতাস খাই’—সাম্প্রতিক জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে এই বইগুলোরও উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিশেষ করে ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর বইমেলায় তাঁর সাহিত্যিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে।

মারজুক রাসেলের শিল্পীজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত তাঁর পথচলার বৈচিত্র্য। দৌলতপুরের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি প্রথমে কবিতায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন; এরপর গীতিকার হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন; পরে অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তাঁর জীবনের গল্পে অনাহার যেমন আছে, তেমনি আছে সাহিত্যপাঠ; ফুটপাথের সংগ্রাম যেমন আছে, তেমনি আছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবির দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস। আছে প্রত্যাখ্যান, আবার আছে জেমসের মতো শিল্পীর কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ।

মারজুক রাসেলের গল্প তাই কেবল একজন অভিনেতা বা গীতিকারের জীবনী নয়। এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে একজন প্রান্তিক বাস্তবতা থেকে উঠে আসা সৃষ্টিশীল মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প।

গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশবের অভিজ্ঞতা, খুলনার দৌলতপুরের দিনগুলো, ঢাকার অনাহার ও সংগ্রাম, কবিতা-গান-অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলা—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে আজকের মারজুক রাসেল। তাঁর জীবন দেখায়, প্রতিকূলতা কখনো কখনো প্রতিভাকে থামিয়ে দেয় না; বরং সেই প্রতিকূলতাই সৃষ্টির ভাষা হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গোপালগঞ্জে জন্ম, দৌলতপুরে বেড়ে ওঠা; শ্রেণিবৈষম্য, অনাহার ও জীবনের কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে কবি, গীতিকার ও অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান মারজুক রাসেল।

মারজুক রাসেলের জীবন: যে গল্পে আছে অনাহার, সংগ্রাম আর সৃষ্টির নেশা

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের বিনোদন ও সাহিত্যাঙ্গনে মারজুক রাসেল এক বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল নাম। কবি, গীতিকার, অভিনেতা ও লেখক—বিভিন্ন পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এই শিল্পীর শৈশব ছিল না মোটেও সহজ। গোপালগঞ্জে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠার বড় অংশ কেটেছে খুলনার দৌলতপুরে। পাটকলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী বাবার সন্তান হিসেবে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থকষ্ট, অপূর্ণ ভালোবাসা, অনিশ্চয়তা ও জীবিকার কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে তাঁর শিল্পীসত্তা।

মারজুক রাসেলের জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৭৩। জন্মস্থান গোপালগঞ্জ হলেও বাবার চাকরির কারণে শৈশবের বড় সময় কাটে খুলনার দৌলতপুর এলাকায়। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় সরকারি কৃষ্ণমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে বাবার ইচ্ছায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে তাঁকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি এবং খুলনার ‘জনবার্তা’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়—এ তথ্য একাধিক জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে আঁকা শিল্পী হাশেম খানের ছবি মারজুক রাসেলের কিশোর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে তাঁর জীবনকথায় উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জসীমউদ্দীনের লেখা তাঁকে আকৃষ্ট করত। পরে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, ফররুখ আহমেদ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যও তাঁর চিন্তাজগৎকে প্রভাবিত করে।

শুধু সাহিত্য নয়, সমাজের বাস্তবতাও খুব অল্প বয়সে তাঁকে নাড়া দেয়। শৈশবেই শ্রেণিবৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁর ভেতরে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি করেছিল। ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও বাবার চাকরির শ্রেণিগত অবস্থানের কারণে কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। পরবর্তী সময়ে এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর লেখার ভেতরের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর তাঁর অনেক সহপাঠী সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় এগিয়ে গেলেও তিনি ভিন্ন এক শিক্ষাপথে চলে যান। এই পরিবর্তন তাঁর মনে হতাশা ও হীনম্মন্যতা তৈরি করেছিল বলে তাঁর জীবনকথা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সেই আবেগ ও কষ্ট কবিতার ভাষা পেতে শুরু করে। ছন্দের আনুষ্ঠানিক জ্ঞান তখনো ছিল না, কিন্তু শব্দ ও অনুভূতির প্রতি তাঁর স্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল প্রবল। সেই সময়ের লেখা কবিতা ‘জনবার্তা’য় প্রকাশিত হওয়া তাঁর সাহিত্যযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

মারজুক রাসেলের কৈশোর ও তারুণ্যের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় অপূর্ণ ভালোবাসা। জীবনকথাভিত্তিক একটি পুরোনো প্রতিবেদনে তাঁর একতরফা প্রেম এবং সেই সম্পর্ককে ঘিরে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্যের অভিঘাতের কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত এই অংশের সব বিবরণ স্বাধীন প্রাথমিক সূত্রে যাচাই করা যায়নি; ফলে এটি তাঁর প্রকাশিত জীবনীমূলক বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, শৈশব-কৈশোরের অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য ও নানা হতাশা তাঁর শিল্পীসত্তাকে দুর্বল না করে বরং গভীর করেছে। পরবর্তী জীবনে তিনি নিজেও এসব অভিজ্ঞতাকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন—এমন বর্ণনা তাঁর জীবনকথা নিয়ে পাওয়া যায়।

কৈশোর পেরিয়ে মারজুক রাসেল ক্রমেই বই ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন। খুলনার বয়রা গণগ্রন্থাগার ও উমেশচন্দ্র গণগ্রন্থাগারে তাঁর যাতায়াত ছিল বলে জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ আছে। একই সময়ে উদীচী ও কলাকেন্দ্রের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন।

সমাজের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং বামপন্থী রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিতিও তাঁর চিন্তাকে প্রভাবিত করে। বই, গান, কবিতা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তৈরি হতে থাকে তাঁর নিজস্ব শিল্পীসত্তা।

মারজুক রাসেলের গীতিকার হয়ে ওঠার পেছনেও রয়েছে একটি সাধারণ অথচ তাৎপর্যপূর্ণ শৈশবস্মৃতি। বাবার পুরোনো ‘নেভিকো’ রেডিওতে গান শুনতে শুনতে একদিন ঘোষকের মুখে শুনেছিলেন—‘গানটি লিখেছেন…’। তখন বাবাকে তাঁর প্রশ্ন ছিল, গান কীভাবে লেখা হয়? বাবার উত্তর ছিল, এ জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়।

সেই কথাই তরুণ মারজুকের মনে গান লেখার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে কবিতা থেকে গানে তাঁর যাত্রা যে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়েছিল, তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারই তার প্রমাণ।

১৯৯৩ সালে খুলনা ছেড়ে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেন মারজুক রাসেল। এর আগে আশির দশকের শেষ দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে প্রথম ঢাকায় এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কবি শামসুর রাহমান, রফিক আজাদ, লুৎফর রহমান রিটনসহ সাহিত্যাঙ্গনের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকায় এসে তাঁর জীবন সহজ হয়নি। বরং শুরু হয় টিকে থাকার কঠিন লড়াই। জীবনীমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সিনেমার টিকিট বিক্রি করেছেন, ফুটপাতে হকারি করেছেন এবং এমনকি জীবিকার প্রয়োজনে বাসের যাত্রীদের কাছেও কাজের জন্য অনুরোধ করেছেন। একসময় তোপখানা রোডের একটি গাড়ির গ্যারেজেও থাকার কথা তাঁর জীবনকথায় উঠে এসেছে।

ঢাকায় আসার পর মারজুক রাসেলের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা কবি শামসুর রাহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ। জীবনকথার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় তিনি কবির বাড়িতে গিয়ে দরজার সামনে নিজেকে ‘অনাহারী’ হিসেবে পরিচয় দেন। শব্দটি শামসুর রাহমানের একটি বইয়ের নামের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। তরুণ মারজুকের বাস্তব অবস্থা বুঝে কবি তাঁকে ভেতরে নিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন—এমন স্মৃতিচারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

এই ঘটনাটি মারজুকের জীবনে শুধু একটি মানবিক স্মৃতি নয়; সংগ্রামী একজন তরুণ শিল্পীর জন্য এটি ছিল মানসিক শক্তি পাওয়ারও একটি মুহূর্ত।

ঢাকার কঠিন জীবনযুদ্ধের মধ্যে একসময় লেখালেখি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন মারজুক। কিন্তু শিল্পীসত্তাকে দীর্ঘদিন চেপে রাখা সম্ভব হয়নি। এক ভোরে একটি ভাবনা তাঁকে আবার লেখার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। সেখান থেকেই তাঁর নতুন সৃষ্টিশীল অধ্যায়ের সূচনা—এমন বর্ণনা তাঁর জীবনকথায় পাওয়া যায়।

পরবর্তী সময়ে একটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি আজিজ মার্কেটকেন্দ্রিক সাহিত্যিক পরিবেশে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। কবিতা ও গল্পের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত গান লিখতে শুরু করেন।

মারজুক রাসেলের গীতিকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে সাংবাদিক ও গীতিকার ফারুক মামুন এবং পরে সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। সংবাদপত্রে কাজ ও ফ্রিল্যান্স লেখালেখির সূত্রে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। একসময় বেশ কিছু গান নিয়ে সঞ্জীব চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি মারজুককে জেমসের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন।

পরামর্শ মেনে মারজুক রাসেল জেমসের স্টুডিওতে যান। তাঁর গান শুনে জেমস উৎসাহ দেন—এই সাক্ষাৎ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় গানের জগতে মারজুক রাসেলের গীতিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

২০০৪ সালের ‘Bachelor’ চলচ্চিত্র নিয়ে The Daily Star-এর সাক্ষাৎকারেও মারজুক জানান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই কাজের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ‘Bachelor’-এর সঙ্গে অভিনয়ের পাশাপাশি গান লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

মারজুক রাসেলের পরিচিতি শুধু কবিতার বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। জনপ্রিয় সংগীতেও তাঁর লেখা জায়গা করে নেয়। জেমস ও অন্যান্য শিল্পীর জন্য গান লিখে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পত্র দিও’, ‘শরাবে শরাব’, ‘পাগলা ঘোড়া’সহ তাঁর লেখা বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

গানের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল লেখাতেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতার এই বহুমুখিতা তাঁকে একই সঙ্গে সাহিত্য, সংগীত, বিজ্ঞাপন ও অভিনয়ের জগতে সক্রিয় করে তোলে।

মারজুক রাসেলের অভিনয়জীবনের শুরু টেলিভিশনভিত্তিক কাজ দিয়ে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালিত ‘আয়না মহল’ তাঁর প্রথমদিকের পর্দার কাজগুলোর একটি। পরে ‘Bachelor’ চলচ্চিত্রে নিজের নামেই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। The Daily Star-এর ২০০৪ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘Bachelor’-এর আগে ‘আয়না মহল’ ও ‘চারুইভাতি’-তে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছিল এবং ফারুকীর সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

এরপর ‘Made in Bangladesh’, ‘Shapludu’, ‘Ratrir Jatri’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ‘Bachelor Point’-এর ‘পাশা’ চরিত্র তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।

মারজুক রাসেলের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতার বই ‘শান্টিং ছাড়া সংযোগ নিষিদ্ধ’, ‘চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো’, ‘বাঈজি বাড়ি রোড’ এবং ‘ছোট্ট কোথায় টেনিস বল’। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশিত হয় ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’ এবং ‘হাওয়া দেখি, বাতাস খাই’—সাম্প্রতিক জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে এই বইগুলোরও উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিশেষ করে ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর বইমেলায় তাঁর সাহিত্যিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে।

মারজুক রাসেলের শিল্পীজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত তাঁর পথচলার বৈচিত্র্য। দৌলতপুরের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি প্রথমে কবিতায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন; এরপর গীতিকার হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন; পরে অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তাঁর জীবনের গল্পে অনাহার যেমন আছে, তেমনি আছে সাহিত্যপাঠ; ফুটপাথের সংগ্রাম যেমন আছে, তেমনি আছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবির দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস। আছে প্রত্যাখ্যান, আবার আছে জেমসের মতো শিল্পীর কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ।

মারজুক রাসেলের গল্প তাই কেবল একজন অভিনেতা বা গীতিকারের জীবনী নয়। এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে একজন প্রান্তিক বাস্তবতা থেকে উঠে আসা সৃষ্টিশীল মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প।

গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশবের অভিজ্ঞতা, খুলনার দৌলতপুরের দিনগুলো, ঢাকার অনাহার ও সংগ্রাম, কবিতা-গান-অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলা—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে আজকের মারজুক রাসেল। তাঁর জীবন দেখায়, প্রতিকূলতা কখনো কখনো প্রতিভাকে থামিয়ে দেয় না; বরং সেই প্রতিকূলতাই সৃষ্টির ভাষা হয়ে উঠতে পারে।