১৭টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন; অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের
কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমির পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক, ১৭ অনিয়মের অভিযোগ; অস্বীকার কর্তৃপক্ষের
- আপডেট সময় : ০৯:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ | ২০ আগস্ট ২০২৬: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অবস্থিত ‘কটিয়াদী শাহীন বৃত্তি ও ক্যাডেট একাডেমি’ নামের একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীর মুর্শেদ ও প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এক অভিভাবক। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাসে একাধিকবার ‘স্কুল পার্টি’র নামে টাকা নেওয়া, অতিরিক্ত দামে বই-খাতা কিনতে বাধ্য করা এবং বিভিন্ন ফান্ড তৈরির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা ও আলোচনা হয়ে আসছে। তবে কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক অভিভাবক কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজের কাছে ১৭টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করেন।
ইউএনও অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কটিয়াদীতে এ নিয়ে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীর মুর্শেদ অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের স্কুলের সাফল্য এবং ক্রমাগত শিক্ষার্থী বৃদ্ধি দেখে একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই চক্রান্ত করে আসছে। তারা মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সামনে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকেও অপপ্রচারে মদদ থাকতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো আদালত নয় যে সেখানে কেউ কাউকে বিচার করবে। প্রান্তিক ও অবহেলিত অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। আমরা শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতে আসিনি।”
তিনি বলেন, রাতারাতি একটি প্রতিষ্ঠান সফল হয়ে ওঠায় একটি গোষ্ঠী হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। এমনকি তাদের পরিবার নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমরানা আহমেদ আরও বলেন, “আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কারও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সরাসরি আমাদের কার্যালয়ে এসে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।














