রংপুরের পূর্ব শালবনের ছাত্রীনিবাস থেকে ১৬ আগস্ট মিমতাজের মরদেহ উদ্ধার; ঘটনাস্থলে মিলেছিল দুই পৃষ্ঠার লিখিত নোট
রংপুর পলিটেকনিক শিক্ষার্থী মিমতাজের মৃত্যু: দুই পৃষ্ঠার নোটের সূত্র ধরে নুরুল্লাহ গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০২:৪৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুর | ১৯ আগস্ট ২০২৬: রংপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মিমতাজ খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিমতাজের সঙ্গে নুরুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি নুরুল্লাহ অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করার পর মিমতাজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত ১৬ আগস্ট দুপুরে রংপুর নগরীর পূর্ব শালবন এলাকার একটি ছাত্রীনিবাস থেকে মিমতাজ খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে দুই পৃষ্ঠার একটি লিখিত নোটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নোটটির বিষয়বস্তু তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পূর্ব শালবনের ওই ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষে একাই থাকতেন মিমতাজ। ১৬ আগস্ট দুপুরে তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মিমতাজ খাতুনের বয়স ২১ বছর। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ঢুবনি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। তাঁর মায়ের নাম মঞ্জুয়ারা বেগম বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিমতাজের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, মিমতাজের সঙ্গে নুরুল্লাহর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং সম্প্রতি নুরুল্লাহ অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন—এমন তথ্য সামনে এসেছে। এরপর মিমতাজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুই পৃষ্ঠার লিখিত নোটে থাকা তথ্য এবং ওই সম্পর্কের বিষয়টি সামনে রেখে নুরুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আপনার সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
তবে মিমতাজের মৃত্যুর সঙ্গে নুরুল্লাহর কোনো প্রত্যক্ষ দায় বা অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। কেবল গ্রেপ্তার হওয়াকে অপরাধ প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া লিখিত নোট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর ধরন ও কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।














