রামচন্দ্রপুরে পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রবিউল শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড
নড়াইলে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: রবিউল শিকদারের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি প্রতিবেশী রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তারিকুজ্জামান লিটু।
দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল শিকদার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে একা পেয়ে রবিউল নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রবিউলকে একমাত্র আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের দিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন রবিউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
২২ জুলাই সকালে পুলিশ রবিউলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই রবিউল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে গত ৪ আগস্ট নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু রবিউলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আদালত ১৯ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই আদালত চত্বরে নিহত শিশুটির স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় রবিউলকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত মানুষের মধ্যে স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি ওঠে।
নিহত শিশুটির স্বজন ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকেরা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবী জানিয়েছেন।














