নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু; নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, পরিচয় নিশ্চিতের পর মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে
কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরাতে কাজ করছে মিশন: শামা ওবায়েদ
- আপডেট সময় : ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তিনি জানান, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ঘটনাস্থলের হোটেল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও বাংলাদেশে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয় সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কোনো নিহতের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার বিষয়টি দেখবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেল-সংবলিত ভবনে বুধবার ভোররাতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটিতে একাধিক হোটেল ছিল এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন কক্ষে ধোঁয়া ঢুকে যায়। অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
আগুনের সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে এয়ার কন্ডিশনার বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে কলকাতা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভবনটির সরু সিঁড়ি, পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা না থাকা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সহযোগিতা দিতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ও বাংলাদেশ সরকার।














