পশ্চিম শান্তিবাগে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা; দ্রুত ড্রেন নির্মাণ, স্থাপনা যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর
কেন্দুয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণে বাধা, শিক্ষকের ভবন নিয়ে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাস্তার পাশে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে পৌরসভার নিয়মনীতি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন শিক্ষক ইকবাল মাস্টার।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ, বিধিবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লার বাসিন্দারা কেন্দুয়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে পানি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও নোংরা পানির কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় ড্রেন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, মহল্লার কয়েকটি স্থানে রাস্তার পাশে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা থাকায় শুধু ড্রেন নির্মাণই নয়, ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে পৌরসভার নিয়মনীতি অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একই স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। তখন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জরিমানা দেওয়ার পরও ওই ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ভবন নির্মাণ নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল মাস্টার। তার দাবি, অভিযোগে যেসব বিষয় বলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও স্থাপনার বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
কেন্দুয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই বিষয়ে অভিযোগ হয়েছিল এবং তখন ইকবাল মাস্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
কেন্দুয়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, পশ্চিম শান্তিবাগের স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পশ্চিম শান্তিবাগের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
তারা দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় স্থানে ড্রেন নির্মাণ এবং পৌর বিধিবহির্ভূত কোনো স্থাপনা থাকলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।














